কলাপাড়ায় অন্তঃসত্বা স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, অবস্থা আশংকাজনক

মে ২৭, ২০১৭

আপনি দেখছেন: দেশের খবর >> নারী ও শিশু, পটুয়াখালী, স্থানীয় শীর্ষ >> কলাপাড়ায় অন্তঃসত্বা স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, অবস্থা আশংকাজনক

মিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী): গায়ের ম্যাক্সিতে আগুন ধরিয়ে স্বামী সোবাহান গাজী তিন মাসের অন্তঃসত্বা স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে (২৫) পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। তার অবস্থা আশংকাজনক।  ফতেমার গায়ে আঘাতের ছোপ ছোপ দাগ, গালে জলন্ত সিগারেটের ছ্যাকা দেয়ার চিহ্ন দেখা গেছে এবং মুখসহ সারা শরীর ঝলসে গেছে।

স্বামী সোবাহান গাজী স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে (২৫) পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার নাচনাপাড়া গ্রামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটেছে। রাতেই স্থানীয়রা ফাতেমাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করলে শরীরের ৭৫ ভাগ পুড়ে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাতেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এখন সে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। পুলিশ এ ঘটনায় স্বামী সোবাহান গাজীকে গ্রেফতার করেছে।

ফাতেমার দুই বছর তিন মাস বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। অভাবের তাড়নায় তাকে কলাপাড়া পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় দাদী হাসিনা বেগমের কাছে রেখে আসে। গত বুধবার সন্ধ্যার পর মেয়েকে দেখতে আসে ফাতেমা। রাতে বাসায় ফেরার পরই শুরু হয় মেয়েকে দেখতে যাওয়ার অপরাধে নির্যাতন। এক পর্যায়ে জলন্ত সিগারেট ফাতেমার গালে চেপে ধরে এবং পুড়িয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

ফাতেমার স্বজনরা অভিযোগ করেন, পেশায় কাঁকড়া, ব্যাঙ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো সোবাহান। এ কারণে পরিবারে অভাব লেগেই থাকতো। সোবাহান নেশা করতো বলেও জানায় তারা। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আবার তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সোবাহান ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে ফাতেমার গায়ের ম্যাক্সিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যায়। ফাতেমার আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘরে এসে আগুন নিভিয়ে তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু আগুনে তার সমস্ত শরীর পুড়ে দগদগে ক্ষত হয়ে যায়। গায়ের ম্যাক্সির কাপড় শরীরের চামড়ার সাথে লেগে যায়।

কলাপাড়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের প্রায় ৭৫ ভাগ পুড়ে গেছে। এ কারণে কলাপাড়া হাসপাতালে তার চিকিৎসা অসম্ভব। তাই বরিশালে রেফার করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

কলাপাড়া থানার ওসি জিএম শাহনেওয়াজ সাংবাদিকদের জানান, স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ রাতেই হাসপাতালে গিয়ে ফাতেমার জবানবন্দী গ্রহণ করেছে এবং তারা সোবাহান গাজীকে গ্রেফতার করেছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *