কাউখালীতে সাড়া জাগিয়েছে গরিবের গ্রাম্য অ্যাম্বুলেন্স ভ্যান সার্ভিস

মার্চ ২৭, ২০১৭

আপনি দেখছেন: দেশের খবর >> পিরোজপুর, স্থানীয় শীর্ষ, স্বাস্থ্য >> কাউখালীতে সাড়া জাগিয়েছে গরিবের গ্রাম্য অ্যাম্বুলেন্স ভ্যান সার্ভিস

রবিউল হাসান রবিন, কাউখালী (পিরোজপুর): পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় শুরু হওয়া গ্রাম্য অ্যাম্বুলেন্স ভ্যান সেবা জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রসূতি মা ও শিশুদের দ্রুত সেবা প্রদানের লক্ষে তৈরি গ্রাম্য অ্যাম্বুলেন্স ভ্যান সেবা খুব দ্রুত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়ায় দিনরাত ২৪ ঘন্টা উপজেলার কাউখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় গরিবের অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে মানুষের মনে ঠাঁই পেয়েছে ।

Kawkhali Ambulence service for poor

কাউখালীতে সাড়া জাগিয়েছে গরিবের গ্রাম্য অ্যাম্বুলেন্স ভ্যান সার্ভিস।

উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মুর্মূষ রোগীদের ১০০ টাকার বিনিময়ে দ্রুত সেবা প্রদান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে কাউখালী সদর ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে প্রায় দুই লাখ  টাকা ব্যয় করে রিচার্জেবল ইজিবাইক দিয়ে রোগী বহনের উপযোগী করে  তৈরি এ গ্রাম্য অ্যাম্বুলেন্স ভ্যান ।

রোগীদের যেকোন প্রয়োজনে শুধু অ্যাম্বুলেন্স চালকের মোবাইলে কল দিলেই হাজির হয়ে যাচ্ছে এই গরিবের গ্রাম্য অ্যাম্বুলেন্স ভ্যান। যা দিন রাত ২৪ ঘন্টা সার্ভিস দিচ্ছে ।

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রসূতি মায়ের কয়েকবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হয়। সাধারণ পরিবহনে গেলে মা ও শিশুর ক্ষতি হতে পারে। বিষয়টি কাউখালী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ মিলটনকে ভাবিত করে তোলে।

সেটা গত বছরের কথা। এ নিয়ে তিনি এলাকার সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি ওয়ার্ড  মেম্বার আর গ্রামবাসীর সঙ্গেও আলোচনা করেন। এভাবেই বেরিয়ে আসে ‘মাতৃসেবা’র আইডিয়া। ইউনিয়ন পরিষদের টাকা থেকে এর ব্যয় বহন করা হয়। এই ভ্যান-অ্যাম্বুলেন্স তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা।

সম্প্রতি এর উদ্বোধন করেন জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি।

এখন অ্যাম্বুলেন্স পেতে প্রত্যন্ত পল্লীর মানুষের ঝামেলা হচ্ছে না। শুধু চাই চালকের বা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের মোবাইল নম্বর। মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় হাসপাতালে যাওয়া যায়।

অ্যাম্বুলেন্সে রয়েছে রোগীর শোবার ব্যবস্থা ও তাকে সাহায্যকারীর বসার স্থান, অক্সিজেনের ব্যবস্থা।

এই অ্যাম্বুলেন্সের সেবা নেওয়া উপজেলার বৌলকান্দা গ্রামের প্রসূতি জামিলা বলেন, ‘মাত্র ১০০ টাকায়  জেলা সদরের হাসপাতালে যেতে পেরেছি।’

কাউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ মিলটন বলেছেন, ‘বেশির ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। গরিবদের পক্ষে বেশি টাকা খরচ করে অ্যাম্বুলেন্সে করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  নেওয়া সম্ভব হয় না। কম খরচে সব সময়  সেবা দেওয়া যায়, এ জন্য গ্রাম্য অ্যাম্বুলেন্স ভ্যানটি তৈরি করা হয়েছে। রোগীদের নিকট  থেকে নেয়া একশত টাকা দিয়ে চালকের  বেতন এবং চার্জ বাবদ ৫০ টাকা খরচ গ্যারেজে দিতে হয়, যাতে অ্যাম্বুলেন্সটি  মেরামতের জন্য ওই অ্যাকাউন্ট  থেকে খরচ করা যায়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *