ঘূর্ণিঝড় মোরা মোকাবেলায় বাগেরহাটে ব্যাপক প্রস্তুতি

মে ২৯, ২০১৭

আপনি দেখছেন: দেশের খবর >> জাতীয়, প্রধান খবর, বাগেরহাট >> ঘূর্ণিঝড় মোরা মোকাবেলায় বাগেরহাটে ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রতিনিধি, বাগেরহাট: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র কারণে মোংলা বন্দরে অবস্থানরত ১১টি বিদেশি জাহাজে পণ্য ওঠা-নামার কাজ বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সকল নৌকা ও ট্রলার এরই মধ্যে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে জেলে-মহাজনরা।

সোমবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার মাছ-ধরা ট্রলার ও নৌকা সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে আশ্রয় নিয়েছে বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ মোকাবেলায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন। জেলা ও সকল উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও সকল সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, রেড ক্রিসেন্ট ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীদের সহায়তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোটা উপকূলে মাইকিং করে জনগণ ও গবাদিপশু নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাগর ও নদীতে অবস্থানরত সকল পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সকল থানা ও ফাঁড়িকে সর্তক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় জানিয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলার ২৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্র। জেলার ৯ উপজেলায় ৯টি ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১টিসহ খোলা হয়েছে ১০টি কন্ট্রোলরুম। জেলার ৭৫টি ইউনিয়নে ৭৫টি ও অতিরিক্ত ৮টি মেডিকেল টিম এবং যুব রেড ক্রিসেন্ট-এর ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় বঙ্গোপসাগর থেকে আশ্রয় নেয়া ৫ শতাধিক ফিশিং ট্রলারকে দুবলা, হিরনপয়েন্ট, কটকা, কচিখালীসহ বিভিন্ন এলাকার ছোট ছোট নদী ও খালে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী, জেলে ও মৌয়ালদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সুন্দরবন বিভাগের সকল নৌযানগুলো নিরাপদে নোঙ্গর করে রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, জেলার ৯টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের সকল আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দিয়ে ঘূর্ণিঝড় মোরা মোকাবেলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাগেরহাট জেলার সকল দ্বীপ, চর ও নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত সকল মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে। ঘূর্নিঝড় মোকাবেলায় জেলা ও প্রতিটি উপজেলা, মংলা বন্দর, সুন্দরবন, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী কন্ট্রোল রুম খুলেছে। ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলায় রেড ক্রিসেন্টসহ সেচ্ছাসেবক ও শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *