পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে ঈশ্বরদীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ভুলু নিহত

জুন ১৭, ২০১৭

আপনি দেখছেন: দেশের খবর >> প্রধান খবর, স্থানীয় >> পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে ঈশ্বরদীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ভুলু নিহত

স্বপন কুমার কুন্ডু, ঈশ্বরদী (পাবনা):  ঈশ্বরদীতে পুলিশ ও মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে কথিত গোলাগুলিতে আলিয়া ভুলু (৪০) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী মারা গেছেন।

এ ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যও আহত হন।

আলিয়া ভুলুর বাড়ি ঈশ্বরদীর ফতে মোহাম্মদপুর বিহারী বাজার এলাকায়। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আলী। এই বিহারি ঈশ্বরদীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

আহতরা পুলিশ সদস্যরা হলেন– এস আই হাবিবুর রহমান, টিএসআই মতিউর রহমান, এটিএসআই মানিক মিঞা, কনস্টেবল উজ্জ্বল হোসেন এবং খায়রুল ইসলাম।

আলিয়া ভুলু।

শনিবার দুপুরে ঈশ্বরদী থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) জহুরুল হক জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তিনটি মোটরসাইকেলে চড়ে আলিয়া ভুলুসহ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী পাকশী ইপিজেড সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। পাকশী চেকপোস্টে তাদের থামানোর জন্য সিগন্যাল দেয় পুলিশ। এসময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে ও গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। গোলাগুলিতে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। অন্য মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে আলিয়া ভুলুকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ তাকে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে । পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। ককটেলের আঘাতে ভুলুর পা ঝলসে যায় এবং তার শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। তবে অতিরিক্ষ রক্তক্ষরণে না গুলিতে ভুলু নিহত হয়েছেন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে তা জানা যাবে।  ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো জানান, ঘটনাস্থল হতে একটি রিভলবার, তিন রাউন্ড গুলি, ৭০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আলিয়া ভুলুর বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় একটি হত্যা মামলাসহ ১০টি মামলা রয়েছে। ভুলু তালিকাভুক্ত ও এজাহারভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী দেশের অন্যান্য থানায় তার বিরুদ্ধে আরো মামলা থাকতে পারে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

জানা গেছে, ঈশ্বরদীতে ১০-১৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে সাথে নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন ভুলু। এর আগে অনেকবার তাকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সর্বশেষ গত ৭ মে আলিয়া ভুলুর স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৩৩) কে প্রায় ৮ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ফিরোজা এখনো কারাগারে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *