বিয়ের একদিন পর কন্যাশিশুর পিতা হলো বাগেরহাটের সেই শিশু

মে ২৭, ২০১৭

আপনি দেখছেন: দেশের খবর >> জাতীয়, বাগেরহাট >> বিয়ের একদিন পর কন্যাশিশুর পিতা হলো বাগেরহাটের সেই শিশু

প্রতিনিধি, বাগেরহাট: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ৫ম শ্রেণির ছাত্রের সাথে বিয়ে পড়ানোর একদিন পরেই একটি কন্য সন্তানের জন্ম দিয়েছেন সেই তরুণী। নবজাত শিশুটির নাম রাখা হয়েছে হাসিনা।

বৃহস্পতিবার রাতে নিশানবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বাসভবনে ডেকে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা সোনিয়াকে বিয়ে দেওয়া হয় হতদরিদ্র পরিবারের ১২ বছরের এক শিশুর সাথে।

বিয়ের একদিন পরে সন্তান প্রসবের খবরে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটিকে এক নজর দেখার জন্য শনিবার সকাল থেকেই শতশত মানুষ ভীড় করছেন।

নবজাত শিশু হাসিনা।

অসম এই বিয়ে নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাসের নির্দেশে মোড়েলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদন্ত শুরু করেছেন। জেলা প্রশাসক জানান, সংবাদপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পরপরই তিনি ইউএনওকে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

‘ছেলে এবং মেয়ে উভয়ে খুব গরিব। তারা একে অন্যের সাথে মেলা করে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে তাই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’  প্রধানমন্ত্রীও বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিয়ে পড়ানোর অনুমতি দিয়েছেন’ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চুর এ ধরনের বক্তব্য সম্পর্কে জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা ব্যতীত কোন বিশেষ ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তাছাড়া, এঘটনাটি অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে।’

এদিকে তরুণীর বর পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্র বিয়ে ও সন্তান কোনো অবস্থাতেই মেনে নিতে পারছে না। শিশুটির দিনমজুর পিতা বলেন, আমি গরিব, অসহায়। মামলা চালানোর সামর্থ্য নেই। তাই স্থানীয় লোকজন ও চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বিয়ে মেনে নিয়েছি। তিনি আরো বলেন, দুই মাস পূর্বে একটি সালিশ বৈঠকে আমার নিকট ১৫ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন ইউপি সদস্য আলম মৃধা। ওই টাকা দিতে না পারায় তরুণীটিকে আমার শিশু ছেলের সাথে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে তরুণীটির দাবি, ওই ছেলের সঙ্গে মেলা-মেশার ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে মোরেলগঞ্জে নয় মাসের গর্ভবতী ১৮ বছরের ওই তরুণীর সঙ্গে ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুর বিয়ে হয়। শিশুটির সঙ্গে ওই তরুণীর শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু তার নিজ বাড়িতে কাজি ডেকে এই অসম ও বিতর্কিত বিয়ের ব্যবস্থা করেন।  কাজি আলতাফ হোসেন বিয়ে পড়ান। একই সাথে ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্যে কাবিননামায়ও  স্বাক্ষর নেওয়া হয় অনেকের।

এ বিষয়ে কাজি আলতাফ হোসেন বলেন, আমার দপ্তরের ২৬ নম্বর রেজিস্ট্রারের ৯৬ নম্বর পৃষ্ঠায় এই বিয়ের তথ্যাদি লিপিবদ্ধ করা হয়েছিলো। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে না পারায় ওই কাবিননামা বাতিল করা হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *