ভাসানের আগেই দাউ দাউ পুড়ে গেল অ্যাডভেঞ্চার-৬

জুন ৭, ২০১৭

আপনি দেখছেন: দেশের খবর >> প্রধান খবর, স্থানীয় >> ভাসানের আগেই দাউ দাউ পুড়ে গেল অ্যাডভেঞ্চার-৬

এম. মিরাজ হোসাইন, বরিশাল: ভয়াবহ আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে ভাসানের অপেক্ষায় থাকা অত্যাধুনিক লঞ্চ অ্যাডভেঞ্চার-৬।

ক্যাটারম্যান টাইপের ওই লঞ্চটি ঈদ-উল ফিতরের সময় যাত্রী পরিবহনের জন্য কীর্তনখোলা নদীর তীরে ডক ইয়ার্ডে অপেক্ষমান ছিল।  নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকা লঞ্চটি শুক্রবার পরীক্ষামূলকভাবে ভাসানোর কথা ছিল।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল নগরীর দপদপিয়ায় অবস্থিত অ্যাডভেঞ্চার ডকইয়ার্ডে আগুন লাগে লঞ্চটিতে।

প্রায় দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে বরিশাল ও ঝালকাঠির ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে লঞ্চটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে আগুন লাগার কারণ বলে ধারণা করলেও লঞ্চের মালিক দাবি করেছেন, কেউ শত্রুতা করে লঞ্চটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লঞ্চটিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগেও কমপক্ষে ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক কাজ করেছে। লঞ্চের সবগুলো এসিতে আগুন লাগার ফলে বিস্ফোরিত হয়ে দ্রুত পুরো লঞ্চে আগুন ছড়িয়ে পরে।

লঞ্চের স্বত্ত্বাধিকারী ও বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি, এফবিসিসিআই এর পরিচালক মো. নিজাম উদ্দিন মৃধা বলেন, কোনো একটি বিশেষ মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আগুন লাগিয়ে নতুন  নৌযানটি পুড়ে ফেলেছে। বিশেষ করে লঞ্চের তিনটি ফ্লোরে আগুন লেগে সমস্ত ফিটিংস, এসি, চেয়ার, ইঞ্জিনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নৌযানটির সিংহভাগই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নিজাম উদ্দিন মৃধা আরো বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা-বরিশাল নৌপথের বিশেষ দিবা সার্ভিসে যুক্ত করার কথা ছিলো অ্যাডভেঞ্চার-৬ ও ৫ নামের বিলাসবহুল দুটি নৌযান। কীর্তনখোলা নদীর দপদপিয়া পয়েন্টের নিজস্ব ডকইয়ার্ডে ক্যাটারমেন টাইপের এ নৌযান দুটির পাশাপাশি আরেকটি যাত্রীবাহী বিলাসবহুল লঞ্চ অ্যাভেঞ্চার-১ এর নির্মাণ কাজ চলছে।

জানা গেছে, পুড়ে যাওয়া নৌযানটির মাত্র পাঁচ ভাগ কাজ বাকি ছিল। আগামী শুক্রবার নৌযানটি কীর্তনখোলা নদীতে ভাসিয়ে ট্রায়াল রান দেওয়ার কথা ছিল। মালিক নিজাম উদ্দিন বলেন, ডকইয়ার্ডের একপাশে শ্রমিক ও কর্মচারীরা তারাবির নামাজ আদায় করছিল। হঠাৎ তারা দেখতে পান লঞ্চে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। এরপর খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

নিজাম উদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে মিডিয়ায় তার নির্মিত অত্যাধুনিক বিলাসবহুল নৌযান পানিতে ভাসানোর কথা ব্যাপকভাবে প্রচার হওয়ায় কোনো মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে আগুন লাগাতে পারে।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় উপ-পরিচালক শামিম আহসান চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ইঞ্জিনের কক্ষে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। আগুনের মাত্রা ভয়াবহ হওয়ায় বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ও ঝালকাঠির তিনটি ইউনিট একযোগে কাজ করে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নেভায়। তবে বিষয়টি দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা তা খতিয়ে দেখার জন্য মালিক তদন্ত কমিটির দাবি করেছেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মো. আওলাদ হোসেন জানান, লঞ্চ মালিকের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অ্যাডভেঞ্চার-৬ নৌযানটি সম্পূর্ণ নতুন মেরিন ইঞ্জিন ও শিট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। এতে হেলিপ্যাডও সংযোজন করা হয়েছিল। বিলাসবহুল ও সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তিনতলা বিশিষ্ট এ নৌযানটি ৬০০ যাত্রী পরিবহনে সক্ষম ছিল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *