মধুপুরে কর্মসৃজন প্রকল্পের মজুরি প্রদানে অনিয়ম

আব্দুল্লাহ আবু এহসান, মধুপুর (টাঙ্গাইল): কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরি থেকে মধুপুর উপজেলার মির্জাবাড়ী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহজাহান তালুকদার টাকা কেটে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকল্পভুক্ত ১৪৫ জন শ্রমিক নারী-পুরুষ সোনালী ব্যাংকের মধুপুর শাখায় টাকা তুলতে আসেন। মোট ৩৩ দিনের কাজ করে তাদের ২৯ দিনের মজুরি পাওয়ার কথা। কিন্তু তাদের অনেকেই পেয়েছেন ২৪ দিনের বিল। এ নিয়ে উত্তেজিত হয়ে শ্রমিকরা ব্যাংকের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

শ্রমিকরা জানান, কর্মসৃজনের চলতি পর্বের ৪০ দিনের মধ্যে ৩৩ দিনের কাজ হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রতিজন শ্রমিকের জন্য দৈনিক ২00 টাকা হারে ২৯ দিনে  ৫ হাজার ৮০০ টাকার বরাদ্দ করে। প্রতি কর্মদিবস থেকে শ্রমিকদের নিজস্ব এ্যাকাউন্টে ২৫ টাকা জমা রাখার পর প্রতিজন শ্রমিকের ৫ হাজার ৭৫ টাকা করে পাওয়ার কথা । কিন্তু শ্রমিকরা পেয়েছেন ৪ হাজার ২০০ করে। বাকি  ৮৭৫ টাকা অজ্ঞাত কারণে কেটে রাখা হয়েছে।

একাধিক দলনেতাসহ শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, চেক নিয়ে তাদের নিজেদের টাকা উত্তোলন করার কথা থাকলেও ওইদিন চেয়ারম্যান শাহজাহান তালুকদার নিজে উপস্থিত থেকে চেকে শ্রমিকদের টিপসই নেন। পরে টাকা তুলে ব্যাংকের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে তিনি শ্রমিকদের মজুরির অর্থ দিতে থাকেন।

আম্বাড়িয়া এলাকার বেশ কিছু শ্রমিক  ২৪ দিনের ৪ হাজার ২০০ টাকা মজুরি প্রদানের বিষয়টি টের পান। অন্য শ্রমিকরা তখন টাকা না নিয়ে ব্যাংকের সামনে হৈচৈ শুরু করেন।

আশপাশের  একাধিক ব্যবসায়ী, ব্যাংকে  আগতদের অনেকে ওইদিনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আব্দুস সামাদের সাথে দেখা করে অভিযোগ করলে ব্যবস্থাপক পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংকের ভিতর থেকে টাকা বিতরণের ব্যবস্থা করেন। আব্দুল মান্নান নামের ব্যাংকের একজন পরে শ্রমিকদের মাঝে মজুরির অর্থ বিতরণ করেন।

ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ১৪৫ জন শ্রমিক কর্মসৃজনে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। তাদের ২৯ দিনের বিল হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র। কিন্তু শ্রমিকদের বিল চেয়ারম্যান কী কারণে কেটেছেন তা জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে পরিষদের একাধিক সদস্য জানান, এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। একমাত্র চেয়ারম্যান বলতে পারবেন।

চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহজাহান তালুকদার এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে জানান। নতুন চেয়ারম্যান হওয়ায় প্রতিপক্ষ তাকে হেয় করতে এ পথ বেছে নিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যে সব শ্রমিক কর্মদিবসে  অনুপস্থিত ছিলেন সে অনুপস্থিতির দিনের বিল না পেয়ে ওসব কথা ছড়িয়েছেন। তার মতে, শ্রমিকরা নিজেদের চেক প্রদানের মাধ্যমে মজুরির অর্থ বুঝে নিয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব আল রানা জানান, এ অভিযোগের বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই। খোঁজ নিয়ে এ অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *