মানুষের সহানুভূতিই পারে মেধাবী সুমনার উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে

মে ১৬, ২০১৭

আপনি দেখছেন: দেশের খবর >> অন্যান্য সংবাদ, পটুয়াখালী, শিক্ষা-সংস্কৃতি, স্থানীয় >> মানুষের সহানুভূতিই পারে মেধাবী সুমনার উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে

মিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী): শিক্ষার আলোতে গ্রামীণ জনপদে আলো ছড়ালেও মেধাবী সুমনা আক্তারের উচ্চ শিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পশ্চিম চাপলী গ্রামের দিনমজুর শাহআলম মাঝির মেয়ে সুমনা এ বছর চরচাপলী ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

তার ইচ্ছে উচ্চ শিক্ষিত হয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু দরিদ্রতা অক্টোপাশের মতো ঘিরে রাখায় বই, খাতা, কলমের সাথে শক্ত হাতে সেলাই মেশিনে কাজ করতে হয়েছে তাকে পরিবারে একটু আর্থিক জোগান দেয়ার জন্য। পড়াশোনার ফাঁকে সময় পেলেই সুই-সুতো নিয়ে বসতো সেলাই করা কাপড়ে কারুকাজ করতে। গ্রামীণ জনপদে গভীর রাত পর্যন্ত কুপি জ্বালিয়ে একদিকে চলতো তার লেখাপড়া, সাথে সেলাইয়ের কাজ।

সুমনার মা আনন্দ অশ্রু নিয়ে সাংবাদিকদের জানান, এ সাফল্য পুরোটাই তার মেয়ের। যেখানে একজন গৃহশিক্ষক কিংবা দু’বেলা দু’মুঠো ভাত ঠিকমতো দিতে পারিনি, সেখানে এই সাফল্য তাদের দুঃখের ঘরে সুখের মাল্য নিয়ে এসেছে সুমনা।

সুমনার পিতা জানান,  “গ্রামে কাজ করলে এ্যাহন আর টাহা পাওয়া যায় না। গায়-গতরে খাইড্ডা আর কতো রুজি (আয়) করা যায়। ঘরে দুইডা মাইয়া আর বউ। ছোড মাইয়া তানজিলা ক্লাস ফোরে পড়ে। শরীর ভাল থাকলে কোন দুইশ-আড়াই’শ কোনদিন তিনশ টাহা পাইতাম। মাইয়াডা ( সুমনা) পড়ার ফাঁহে ফাঁহে সেলাইয়ের কাজ না করতে পারলে তো সংসারের কোন অভাবই পূরণ হইতো না।”

মেধাবী সুমনার সাফল্যে তার পরিবারের সঙ্গে গোটা এলাকার মানুষ খুশি হলেও গরিব এ পরিবারটি কীভাবে সুমনার উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নপূরণ করবে সে চিন্তা গ্রামবাসীর সাথে তার স্কুল শিক্ষকদেরও।

চরচাপলী ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী আহমেদ জানান,  সুমনার মতো মেধাবী মেয়ে তিনি কমই দেখেছেন। শুধু স্কুলে শিক্ষকদের কাছ থেকে পড়া শিখে নিজ মেধায় সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। পড়াশোনার ফাঁকে সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালাতো। কিন্তু এখন কলেজে ভর্তি, বই কেনা অনেক খরচ। এই টাকা তার পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব। একমাত্র মানুষের সহানুভূতিই পারে তার শিক্ষাজীবন ও উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *