মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় খুলনাঞ্চলের জনজীবনে দুর্ভোগ, অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ

মে ২৪, ২০১৭

আপনি দেখছেন: দেশের খবর >> খুলনা, প্রধান খবর, স্থানীয়, স্বাস্থ্য >> মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় খুলনাঞ্চলের জনজীবনে দুর্ভোগ, অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ

প্রতিনিধি, খুলনা: মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় খুলনাঞ্চলে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। সেইসাথে বেড়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং। প্রচণ্ড গরমে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সব বয়সের মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি কমে গেছে।

এ দিকে দিনে রাতে অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে গ্রীষ্মের দাবদাহ শুরু হয় এবং তা চলে শেষ বিকেল পর্যন্ত। দুপুরের পর থেকে রাস্তাঘাট জনমানব শূন্য হতে থাকে। ঘন ঘন বিদ্যুত বিভ্রাটে বাসা-বাড়িতে যেয়েও স্বস্তি মেলেনা। মধ্যরাতের পর ঘন্টা বিরতি দিয়ে চলে লোডশেডিং। অর্থাৎ রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। অনেকেই রাতে ঘুমাতে পারেন না। সবচেয়ে বেশি কষ্টের মধ্যে আছে শ্রমজীবী মানুষ, বৃদ্ধ ও শিশুরা।

ঢাকা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী গত সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল খুলনাতে। এদিন খুলনায় তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ দিকে দুঃসহ গরমে খুলনায় বয়স্কদের মাঝে পেটের পীড়াসহ ডায়রিয়া ও কলেরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। শিশুরা ডায়রিয়ার পাশাপাশি জ্বর, বমি এবং শ্বাস কষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

নগরীসহ উপজেলাসমূহের রাস্তা-ঘাট এবং হাট বাজারে খোলা মেলাভাবে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। অসহ্য গরমে গ্রাম-শহরের সর্বত্র নানা রকম ঠান্ডা সরবত ও ফলের জুস বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্নস্থানে অস্বাস্থ্যকরভাবে পানীয় তৈরি এবং কেমিকেল মিশ্রিত ফলের জুস বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তৃষ্ণার্ত মানুষ বাছ-বিচার ছাড়াই এসব পানীয় পান করছেন।

খুলনা সংক্রামক ব্যধি হাসপাতালে চলতি মে মাসের শুরু থেকেই ডায়রিয়া ও কলেরা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করলেও গত তিন সপ্তাহ ধরে রোগীর গড় সংখ্যা বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ জনে দাড়িয়েছে। যাদের ৫০ শতাংশই কলেরায় আক্রান্ত বলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় গ্রহণের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচেছ। এছাড়া প্রচণ্ড গরমে অতিরিক্ত ঘাম থেকে মানুষ পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হচ্ছে। এরপর বমি থেকে ডায়রিয়া এবং তারপর অবস্থা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে কলেরায় রূপ নিচ্ছে।

খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের মধ্যে একমাত্র সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মী নেই। রোগীদের মল-মূত্রের দুর্গন্ধে সেখানকার পরিবেশ ভারি হয়ে থাকে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া চিকিৎসক ও সেবিকা সংকটে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিম-শিম খেতে হচ্ছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

খুলনা জেলা সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান শাখা থেকে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, খুলনা শিশু হাসপাতাল এবং খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মোট ৫ হাজার ৩শ ৫০ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে চলতি মাসের আক্রান্তের হিসাব এখনও সংশ্লিষ্টদের হাতে এসে পৌঁছায়নি।

খুলনা শিশু হাসপাতালের উপ তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ অনূপ কুমার দে বলেছেন, প্রচণ্ড গরমে শিশুদের মাঝে জ্বর, বমি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখাও কম নয়। প্রতিদিন হাসপাতালে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে। বহির্বিভাগে দৈনিক গড়ে ৫ থেকে ৬শ জন চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। চলতি মে মাসের শুরু থেকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *