শেরপুরে বাল্যবিয়ে ও যৌতুককে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে শপথ নেয় শিক্ষার্থীরা

মে ২১, ২০১৭

আপনি দেখছেন: দেশের খবর >> নারী ও শিশু, প্রধান খবর, শেরপুর, স্থানীয় >> শেরপুরে বাল্যবিয়ে ও যৌতুককে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে শপথ নেয় শিক্ষার্থীরা

হাকিম বাবুল, শেরপুর: শেরপুরে লালকার্ড দেখিয়ে সদর উপজেলার ৬ নং পাকুড়িয়া ইউনিয়নকে বাল্যবিয়ে ও যৌতুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে ওই ইউনিয়নের নিজাম উদ্দিন আহম্মদ মডেল কলেজ মাঠে ইউনিয়নের ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থী হাতে বাল্যবিয়ে-যৌতুককে ‘না’ লেখা লালকার্ড একসাথে তুলে ধরে বাল্যবিয়ে ও যৌতুকবিরোধী শপথ নিয়েছেন।

শেরপুরে বাল্যবিয়ে ও যৌতুককে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে শপথ নেয় শিক্ষার্থীরা|

এতে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেনের সাথে সমম্বরে তারা বলে উঠেন ‘১৮ বছরের আগে বিয়ে করব না, কাউকে করতে দেব না। যৌতুক দেবোনা, নেবোনা, মানবো না। দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করব, নিজেকে গড়বো, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করবো।’ লালকার্ডে বাল্যবিয়ে ও নারী-শিশু নির্যাতনবিরোধী হটলাইন নম্বর ‘১০৯’ এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নম্বর দেওয়া হয়। যাতে যেকোন বাল্যবিয়ে বন্ধের ক্ষেত্রে ওইসব নাম্বারে কল করে ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। নাগরিক সংগঠন ‘জনউদ্যোগ’ ও পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওয়ার্ল্ডভিশন শেরপুর এডিপি, আইইডি, রক্ত দিন জীবন বাঁচান, আসলকাজ, বাংলার মুখ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমন্ডলী এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সার্বিক সহায়তা করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ হায়দার আলী তার ইউনিয়নকে আজ থেকে বাল্যবিয়ে ও যৌতুকমুক্ত ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি বলেন, এখন থেকে পাকুড়িয়া ইউনিয়নে কোন বাল্যবিয়ে, যৌতুকের কোন লেনদেন হবেনা। এ সংক্রান্ত কোন সংবাদ পেলে যারা জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ বাল্যবিয়ের সংবাদ মোবাইলে বা সরাসরি তাকে জানালে ওই ব্যক্তিকে নগদ ৫০০ টাকা পুরষ্কার দেবেন বলে তিনি ঘোষণা করেন। সেইসাথে কোন মেয়ে তার বাল্যবিয়ের সংবাদ জানালে ওই মেয়ের লেখাপড়ার খরচ নিজে বহন করার ঘোষণাও দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার মো. রফিকুল হাসান গণি বলেন, ১৮ বছরের আগে তোমরা বিয়ের কথা চিন্তাও করবা না। লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী হও। বর্তমান সরকার মেয়েদের এগিয়ে নিতে নতুন নতুন অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তোমরা লেখাপড়া করে নিজেদের যোগ্য করে তোলো। তিনি আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ বাল্যবিয়ের জন্য চাপ দিলে আমাদের জানাবে, আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

আহ্বায়ক নবারুণ পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মাঝে জেলা পরিষদ সদস্য মো. কফিল উদ্দিন, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীম আরা শামীমা, অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম ঠান্ডু, সাংবাদিক মেরাজ উদ্দিন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, কার্টুনিস্ট শাহীন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *