১১ দিন লড়ে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ফাতেমা

জুন ৫, ২০১৭

আপনি দেখছেন: দেশের খবর >> অধিকার, নারী ও শিশু, পটুয়াখালী, প্রধান খবর, স্থানীয় >> ১১ দিন লড়ে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ফাতেমা

মিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী): ১১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে হার মানলেন স্বামীর নির্যাতনের শিকার ফাতেমা বেগম। একই সঙ্গে তার গর্ভের সন্তানও মারা গেছে।

রোববার রাতে বরিশাল-শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ফাতেমা।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার নাচনাপাড়া গ্রামে ২৫ মে রাতে স্বামী সোবাহান গাজী নির্মম নির্যাতন শেষে ফাতেমার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের প্রায় ৭৫ ভাগ পুড়ে যায়।

অগ্নিদগ্ধ ফাতেমা।

ফাতেমার রূপা নামের সোয়া দুই বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। সংসারে অশান্তির কারণে রূপাকে ফাতেমা কলাপাড়া পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় দাদি হাসিনা বেগমের কাছে তত্ত্বাবধানে  রেখে আসেন। ঘটনার দিন (২৫ মে) মেয়েকে দেখে রাতে একটু দেরি করেই বাসায় ফিরে ফাতেমা। কিন্তু এই দেরি মেনে নিতে পারেনি তার স্বামী সোবাহান গাজী। মেয়েকে কেন দেখতে গেছে এই অপরাধে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে গায়ের ম্যাক্সিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ঘর আটকে পালিয়ে যায়। ফাতেমার আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করে। রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠানো হয়। আগের রাতেও এক দফা নির্যাতনের শিকার হন ফাতেমা। স্বামী তার মুখমণ্ডলে জলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দেয়।

ফাতেমার প্রতিবেশীরা জানান, আবার সন্তান হবে এই খবর শোনার পর থেকে ফাতেমা সব সময় উৎফুল্ল থাকতো। যদি একটা পুত্র সন্তান হয় তাহলে হয়তো সন্তানের মুখ চেয়ে বাবা নেশা ছেড়ে দেবে, সংসারে মনোযোগ দেবে–এরকম আশা করতো।  সবাই সোবাহানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।

কলাপাড়া থানার ওসি জিএম শাহনেওয়াজ জানান, ঘটনার পরই স্বামী সোবাহান গাজীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে আদালতের নির্দেশে পাঁচ দিনে রিমান্ডে আনা হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *