কৃষকের স্বার্থে গণমাধ্যমে কৃষি তথ্যের প্রবাহ বাড়ানোর তাগিদ

Roundtable
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু

ঢাকা, ১৯ এপ্রিল ২০১৪, নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গণমাধ্যমে কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী তথ্যপ্রবাহ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন সরকারের মন্ত্রী, বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ এবং কৃষি বিশেষজ্ঞরা। গণমাধ্যমে কৃষি বিষয়ে বিশেষায়িত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা এবং সময়ের চাহিদায় গণমাধ্যমের বিদ্যমান কৃষি কার্যক্রমগুলোর আরো মানোন্নয়নের সুপারিশ করেছেন তারা। গণমাধ্যমে কৃষি বিষয়ক সাংবাদিক ও অনুষ্ঠান নির্মাতা তৈরির জন্য গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকতা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সুনির্দিষ্ট পাঠক্রম চালু করা আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ক্যাটালিস্ট-এর সহযোগিতায় গণমাধ্যম বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা সমষ্টি’র আয়োজনে আজ ১৯ এপ্রিল শনিবার এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেন, সামগ্রিকভাবে কৃষি খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি বিশেষ করে দরিদ্র এবং নারী কৃষকের স্বার্থে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যম শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই দিকটি বিবেচনায় রাখতে হবে। খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দারিদ্র্য নিরসনের জন্য এর বিকল্প নেই।

Roundtable

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। গণমাধ্যমের মূল সংবাদে কৃষি সংবাদ অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা শিক্ষায় বিশেষায়িত কৃষি সাংবাদিকতা কারিক্যুলাম চালু করতে হবে।

বিশেষ অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, শিশুদের শিক্ষায়ও কৃষি বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। কৃষি বিষয়ে বিশেষায়িত টেলিভিশন চ্যানেল চালুরও আহ্বান জানান তিনি।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং চ্যানেল আই-এর পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। কৃষি বিষয়ে গণমাধ্যম তৎপরায় সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতায় কৃষি উন্নয়নে গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বিষয়ে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন তিনি। বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ঝুঁকির কারণে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির চাহিদা মেটানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থায় কৃষকদের সময়োপযোগী প্রযুক্তি জ্ঞান ও সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি।
অতিথি আলোচক বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এটিএন বাংলার উপদেষ্টা নওয়াজিশ আলী খান দরিদ্র কৃষকদের কৃষির বৃহত্তর গোষ্ঠী উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের কৃষকদের ব্যাপারে গণমাধ্যমকে আরো সচেতন ও উদ্যোগী হতে হবে।

সাংবাদিক অজয় দাশ গুপ্ত বলেন, কৃষি বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণার অভাবে অনেক সময় গণমাধ্যমেও এ খাতের অনেক বিষয় সঠিকভাবে উস্থাপিত হয় না। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের আরো সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
শের-এ-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য অধ্যাপক ড. শহীদুর রশীদ ভুঁইয়া বলেন, সাংবাদিকদের যেমন কৃষি বিষয়ে গভীর ধারণা থাকা জরুরি, কৃষিবিদদেরও তেমনি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। তাহলেই কৃষি ও কৃষকের কথা আরো নিবিড়ভাবে গণমাধ্যমে উঠে আসতে পারে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে দারিদ্র্য নিরসনের লক্ষ্যে কৃষি উন্নয়নে ক্যাটালিস্ট-এর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন ক্যাটালিস্ট-এর হেড অব গভর্নমেন্ট রিলেশন্স ইমদাদুল হক।  গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাক ড. গোলাম রহমান।

আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. শফিউল আলম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. হেলেনা ফেরদৌসী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী, সাংবাদিক রিয়াজ আহমেদ, বাংলা নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কম-এর বার্তা প্রধান মাহমুদ মেনন খান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, কৃষিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম এবং অন্যরা।

টেলিভিশনসহ গণমাধ্যমের কৃষি বিষয়ক কার্যক্রম উন্নয়ন এবং কৃষি বিষয়ে গণমাধ্যমের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ  তৈরিতে গণমাধ্যম শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে কৃষি সাংবাদিকতা কোর্স চালুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয়।