মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী টানতে কলাপাড়ায় আগাম বই বিতরণ, স্কুল নিরুৎসাহে প্রচারণা

মাদ্রাসা বোর্ডের নতুন বই হাতে কলাপাড়ার এক শিক্ষার্থী। ছবি: প্রতিনিধি

কলাপাড়া, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪, প্রতিনিধি: মাদ্রাসায় ভর্তি হলেই জান্নাত, আর স্কুলে ভর্তি হলে দোযখ– এমন দাবি নিয়ে শিক্ষার্থী সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার একটি মাদ্রাসার শিক্ষকরা। শিক্ষার্থী টানতে ২০১৫ সালের পাঠ্যবইও আগাম বিতরণ করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা যাতে অন্য কোথাও ভর্তি হতে না পারে সেজন্য মাদ্রাসা শিক্ষকরা কৌশলে প্রাথমিক সমাপনীর প্রবেশপত্র নিয়ে গেছেন এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।

মাদ্রাসা বোর্ডের নতুন বই হাতে কলাপাড়ার এক শিক্ষার্থী। ছবি: প্রতিনিধি

মাদ্রাসা বোর্ডের নতুন বই হাতে কলাপাড়ার এক শিক্ষার্থী। ছবি: প্রতিনিধি

বুধবার চাকামইয়া ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা দেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন বই পেয়েছে। গাজীপাড়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাদের নতুন বই দিয়েছেন। পহেলা জানুয়ারি থেকে নতুন বই বিতরণের সরকারি কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা।

কাঁঠালপাড়া গ্রামের শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার রূপালী জানায়, সে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু তাদের বাড়িতে মাদ্রাসার  ষষ্ঠ শ্রেণির বই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষকরা পঞ্চম শ্রেণির প্রবেশপত্র নিয়ে গেছেন। এছাড়া তামান্না, তানজিলা, ইমরান, রীমাও মাদ্রাসার বোর্ডের বই পেয়েছে।

একাধিক অভিভাবক জানান, বাসায় বাসায় গিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকরা তাদের সন্তানদের মাদ্রাসায় ভর্তি হতে বলছেন। এতে নাকি জান্নাত পাওয়া যাবে।

মাদ্রাসার সুপার মাওলানা হাবিবুর রহমান নতুন বই বিতরণের কথা অস্বীকার করেছেন।

কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী রুহুল আমিন জানান, ১ জানুয়ারির আগে নতুন পাঠ্যবই দেওয়ার নিয়ম নেই। যদি কোনও মাদ্রাসা বা স্কুল শিক্ষকরা আগাম বই বিতরণ করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মোহো. ১৪৪০