৪৫ দিন পর খোলার দিনই ধর্মঘটে অচল হাবিপ্রবি

দিনাজপুর থেকে রতন সিং: ৪৫ দিন পর দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার দিনেই শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে শিক্ষক সমিতির ডাকে শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতী। উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে অব্যাহত রয়েছে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পৃথক ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে হাবিপ্রবি।

রোববার (১১ জানুয়ারি) ৪৫ দিন পর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি হল খুলে দেয়া হয়। সোমবার সকালে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ শুরু ও একাডেমিক কার্যক্রম চালু হলে শিক্ষার্থীদের সাথে বিতর্ক ও অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন শিক্ষকরা।

Hazi Danesh University

হাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক প্রফেসর মো: মিজানুর রহমান ও সদস্য সচিব প্রফেসর ড. এটিএম সফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে সোমবার দুপুরে জানানো হয় হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়ালের নেতৃত্বে হাবিব, শাওন, মিল্টন, রানা এবং বহিস্কৃত ছাত্র অরুন, জাহিদ হাসান ও অনিন্দ দত্ত অন্তুসহ কতিপয় ছাত্র প্রশাসনিক কাজে বাধা প্রদান এবং শিক্ষকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। শেখ রাসেল, তাজউদ্দিন ও জিয়া হলের সামনে তাদের দ্বারা ২০/২৫ জন শিক্ষক অপমানিত হন। এক পর্যায়ে তারা সাবেক রেজিষ্ট্রার প্রফেসর বলরাম রায় ও প্রফেসর ড. শ্রীপতি সিকদারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

শিক্ষক সমিতির এক জরুরি সভায় এই ঘটনার প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে সোমবার থেকে শিক্ষকদের ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষক ধর্মঘটের কারনে কোনো ক্লাশ অনুষ্ঠিত হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর এটিএম সফিকুল ইসলাম জানান, উক্ত ঘটনার বিচার চেয়ে উপাচার্যের নিকট শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। তবে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

এদিকে সোমবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে হাবিপ্রবি’র ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের এক সংবাদ সম্মেলনে আহ্বায়ক ডা. ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েল বলেন, হাবিপ্রবি’র ভিসি প্রফেসর মো: রুহুল আমিনের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ৪৫ দিন পর রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খুলে দেয়া হলেও পূর্ব কোনো নোটিশ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের চরমভাবে হয়রানি করা হয়। তাদেরকে বাধ্য করে অর্থ আদায় করা হয়। অথচ আবাসিক ফি আদায়ের কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি। অবরোধের মধ্যে সীমাহীন কষ্ট করে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এসে হলে ঢুকতে পারেনি। হলের দায়িত্বে নেই এ ধরনের ৩০/৪০ জন শিক্ষক পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আবাসিক ছাত্রদের বাধা প্রদান, এমনকি শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অরুন কান্তি রায়, সিফাত শাহ, জাহিদ হাসান, গোলাম রাব্বী ডলার, প্রতুষ রায় এবং অনিন্দ্য দত্ত অন্তু প্রমুখ।