চিচিংগা ক্ষেতে অজানা রোগ, ফসল হারানোর শংকায় ভোলার চাষিরা

ভোলা থেকে জুন্নু রায়হান: অজ্ঞাত রোগের আক্রমণে ভোলা সদর উপজেলার প্রায় ৬০ হেক্টর জমির চিচিংগা গাছের পাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে। এতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেতে ফুল ও ফল ঝরে যাচ্ছে। ফসল হারানোর শংকার মধ্যে আছেন চাষিরা।

snake gourd attacked by unknown virus
ভোলার বাপ্তা গ্রামে রোগাক্রান্ত  চিচিংগা ক্ষেত

অজ্ঞাত রোগ সম্পর্কে কৃষি অফিসও চাষিদের ফলপ্রসূ কোনো পরামর্শ দিতে পারছে না।

সদর উপজেলার বাপ্তা, কাচিয়া, ধনিয়া, ইলিশা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অজানা এ রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে।

ইলিশা ইউনিয়নের মুরাদছবুল্লা গ্রামের চিচিংগা চাষি আবদুল গনি,  রফিকুল ইসলাম, কামাল হোসেনসহ অনেকের ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ লতা মাচা পর্যন্ত ওঠার আগেই কুঁকড়ে গেছে। দু-চারটি গাছ মাচায় উঠলেও ফুল  ও ফল নেই। কৃষকরা জানান, রোগের আক্রমণে তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

চাষি রকিফুল ইসলাম জানান, কৃষি অফিস জানিয়েছে অজ্ঞাত কারণে গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর কোনো ওষুধ নেই। এখন নষ্ট গাছগুলে তুলে ফেলা ছাড়া বিকল্প কিছু করার নেই।

বাপ্তা ইউনিয়নের চাষি আবুল কালাম জানান, দশ বছর ধরে চিচিংগা চাষ করছেন। প্রতি বছর দুই তিন-লাখ টাকা আয় হয়। কিন্তু এ বছর আড়াই একর জমিতে চিচিংগা চাষ করতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১০ হাজার টাকার চিচিংগা বিক্রি করেছেন। এত বড় লোকসান কীভাবে সামাল দেবেন সেই ভবনায় তিনি এখন দিশেহারা।

ভোলা সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুল আলম চৌধুরী জানান, নষ্ট হওয়া ক্ষেতের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া এবং অজ্ঞাত ভাইরাসের আক্রমণে অনেক সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। অজ্ঞাত ওই ভাইরাসের প্রতিকার জানা নেই। কৃষকদেরকে আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলে পুড়িয়ে বা মাটিতে পুঁতে ফেলতে বলা হয়েছে।