বাগেরহাটে খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান

বাগেরহাট থেকে বাবুল সরদার: বাগেরহাট বাসাবাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনতলা ভবনটি দেড় বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও শুরু হয়নি নতুন ভবন নির্মাণ কাজ। সরকারী নিয়ম রক্ষার্থে অনেকটা  বাধ্য হয়ে ভবনের পাশে জরার্জীণ টিনশেডে সাড়ে ৩শ ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে চলছিল শিক্ষা কার্যক্রম। কিন্তু গ্রীস্মের অতিরিক্ত তাপদাহ ও বর্ষার পানি মুুলিবাশের তৈরি বেড়া ভেদ করে  শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ায় অনেটা বাধ্য হয়েই বিদ্যালয়ের বাইরে ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের।

Bagerhat photo (08.04.2015)H
আগের রাতে বৃষ্টির কারণে শ্রেণিকক্ষ পাঠদানের অনুপযুক্ত হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে ক্লাশ নিচ্ছেন শিক্ষকবৃন্দ।

এ অবস্থায় অনেক অভিভাবক তাদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। সরেজমিন ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের এ দুরবস্থা। খোদ বাগেরহাট পৌরসভার ভেতরে এ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে করুণ অবস্থা চলছে দিনের পর দিন।

১৯৮৮ সালে বাসাবাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে নতুন দ্বিতল ভবন নির্মাণ হয়। পরে ২০০১ সালে এলাকাবাসীর আপত্তি সত্বেও ওই দ্বিতল ভবনের উপর নতুন করে তৃতীয় তলার কাজ সম্পন্ন হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ নির্মাণ কাজে নানাবিধ ক্রটির কারণে তখন থেকেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। এক পর্যায়ে তিন তলা বিশিষ্ট ওই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ২০১৩ সালের ৫ জুন বিদ্যালয়টির ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনার পর ওই বছরের ৬ জুলাই  উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জুরুরিভাবে পরিত্যক্ত ভবনের কিছু দূরে মাঠের মধ্যে টিন শেডের কাঁচা ঘর তৈরি করা হয়। এ সময়ে ওই বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিসহ ৫ম শ্রেণিতে মোট ৩২২ জন শিক্ষার্থী ছিল। সাময়িক সময়ের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য টিনশেডের তৈরি শ্রেণিকক্ষের  এখন চরম দুবরস্থা। টিন নষ্ট হয়ে গেছে। বাঁশের তৈরি বেড়ার অবস্থাও খারাপ। বৃষ্টি কাদায় শিক্ষার্থীদের চরম দুরবস্থার মধ্যে চলছে ক্লাস। দীর্ঘ দিনেও শুরু হয়নি ওই বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের কাজ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানা বুলবুল জানান, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষের চরম দুর্দশার বিষয়টি জানানো হয়েছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই শিক্ষার্থীদের কর্দমাক্ত শ্রেণিকক্ষে বসিয়ে শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছেন। অতিরিক্ত তাপদাহ ও বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে আর ক্লাস নেওয়ার মত পরিবেশ থাকে না, তখন শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষের বাইরে খোলা মাঠে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নেন। দেড় বছর হয়ে গেল সমায়িক সময়ের জন্য নির্মিত এ শ্রেণিকক্ষের বর্তমান অবস্থা খুবই খাবাপ। এ অবস্থায় বর্তমানে স্কুলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি অনেক কমে গেছে।

এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম এহতেশামুল হক বলেন, অনেক আগে পরিত্যক্ত ওই স্কুল ভবনের পাশে উপজেলা প্রশাসন জরুরিভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার জন্য তিনটি কক্ষ তৈরি করে দেয়। এখনও সেখানে চলছে ক্লাস। ওই স্কুলের দুরবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পুরাতন ভবনের স্থানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য লিখিত আবেদন করা হলেও এখনো কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।