কলেজছাত্রীকে এ্যাসিডে ঝলসে দিয়েছে বখাটে

হায়দার হোসেন, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ সদরের টুঠামান্দ্রা গ্রামে বখাটের ছোড়া এ্যাসিডে ঝলসে গেছে কলেজছাত্রী আঁখি বাগচী পাখি (১৭)। শনিবার ভোররাত তিনটার দিকে ঘরের ভিতর ঢুকে  কৃষ্ণপুর সপ্তপল্লী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এ ছাত্রীর ওপর এ্যাসিড ছুড়ে মেরে পালিয়ে যায় ওই বখাটে।

আঁখিকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মুখ, হাত, গলাসহ শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

আঁখি টুঠামান্দ্রা গ্রামের সুভাষ বাগচীর কন্যা। আঁখি ও তার মা মমতা বাগচী জানান, পাশের ঘোষালকান্দি গ্রামের সুধাংশু ঘোষের বখাটে ছেলে রথিন ঘোষ (২৫) দু বছর ধরে প্রেম করার জন্য আঁখিকে উত্যক্ত করে আসছিল। পরে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও আঁখি বা তার পরিবার সে প্রস্তাব না মেনে নেয়ায় কয়েকবার হুমকি-ধামকি দেয় রথিন। এ নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মুরব্বিদের নিয়ে সালিশও হয়েছে। কিন্তু রথিনের বাড়াবাড়ি না কমায় বাড়ি ছেড়ে সদর উপজেলার কৃষ্ণপুরে মামাবাড়িতে থেকে আঁখি পড়াশোনা করতো।

ধান কাটার মৌসুমে বাবা-মাকে সাহায্য করতে আঁখি মামাবাড়ি থেকে নিজেদের বাড়িতে আসে। রাত ৩টার দিকে ঘরের হোগলা পাতার বেড়া কেটে ঘরের মধ্যে ঢুকে আঁখিকে এ্যাসিড মেরে পালিয়ে যায় রথিন। ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে তাকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সদর উপজেলার সাহাপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিনয় সরকার জানান, দু-তিন মাস আগে বিষয়টি আমি দু পক্ষের সাথে কথা বলেছি। ছেলে এবং তার বাবাকে বলে দিয়েছিলাম যাতে মেযেটিকে আর জ্বালাতন না করে। মেয়েটিকে জ্বালাতন করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তখন তিনি ছেলেটিকে বলে দিয়েছিলেন।

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নিয়াজ আহম্মেদ জানান, আঁখির শরীরের ১০ শতাংশ ঝলছে গেছে। এ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য আঁখিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ইনেসপেক্টর (তদন্ত) সেলিম রেজা জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার গোবরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, স্কুল ছুটি থাকায় খুলনা থেকে মা-বাবার সাথে গোপালগঞ্জে নানাবাড়ি বেড়াতে আসে ইব্রাহিম শেখ (৯)। সকালে খালাতো ভাই সৈয়দ হাসানের সাথে বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে যায় সে। এ সময় ইব্রাহিম ও হাসান পানিতে ডুবে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইব্রাহিম খুলনার শেখ নাজমুল ইসলাম হিটুর ছেলে ও প্লাটিনাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র।