কুয়াকাটা সৈকত রক্ষা বাঁধের বিশাল অংশ ধসে পড়েছে

কলাপাড়া থেকে মিলন কর্মকার রাজু: কুয়াকাটা সৈকত রক্ষা বাঁধের বিশাল অংশ ধসে পড়েছে। অমাবশ্যার জো’র প্রভাবে গত পাঁচদিনে বাঁধ রক্ষায় ফেলা ব্লক ধসে পড়ায় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে কুয়াকাটা রক্ষা বাঁধ। ইতিমধ্যে বাঁধের প্রায় একশ ফুট এলাকা ভেঙ্গে গেছে। সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে ধসে পড়েছে বাঁধ প্রটেকশনের ব্লক। এ কারণে উদ্বিগ্ন হয়েছে কুয়াকাটায় হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগকারীরা। সৈকতের মাঝিবাড়ি ও শুটকিপল্লী এলাকার মাঝামাঝি পয়েন্টে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের প্রভাবে এ বাঁধ ভাঙনের কারণে আতংকিত হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার ও ব্যবসায়ীরা।

KALAPARA PIC-0 (22.6.15)

কুয়াকাটা সৈকতের মাঝিবাড়ি পয়েন্টে ভাঙনরোধে ব্লক ফেলা হলেও গত এক সপ্তাহের জলোচ্ছ্বাসে তা বিলীন হয়ে যাচ্ছে

পাউবো’র ৪৮ নং পোল্ডারের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের খাজুরা-মাঝিবাড়ি পয়েন্ট ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলার জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এলাকাবাসীর দাবির  প্রেক্ষিতে ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে তিন কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এ বাঁধটি নির্মাণ কাজ শেষ হয়। কিন্তু বাঁধের মাঝিবাড়ি ও শুটকিপল্লী এলাকার মাঝামাঝি পয়েন্টে ভাঙন ঠেকাতে ব্লক না ওেয়ায় বাঁধে ভাঙন শুরু হয়।

এলাকার একাধিক মানুষ অভিযোগ করেন, ‘কুয়াকাটা রক্ষা বাঁধের ওই পয়েন্টটি হচ্ছে সাগর মোহনায়। ফলে সাগরের ঢেউয়ের ঝাঁপটায় একই পয়েন্ট বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাঙন রোধের জন্য সিসি ব্লক তৈরি নিয়ম মাফিক করা হয়নি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্লক না ফেলায় সাগরের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে কোনও ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে গোটা বাঁধ ভেঙে বাঁধের অভ্যন্তরে পানি প্রবেশ করতে পারে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত এলাকা প্রটেকশনের উদ্যেগ নেওয়া প্রয়োজন।

কুয়াকাটার বাসিন্দা মো. বাদল পাহোলান বলেন, সাগরের ভাঙনে কুয়াকাটা আদর্শ গ্রামের দুই তৃতীয়াংশ বিলীন হয়ে গেছে। এখন মূল বাঁধ ভাঙলে বাঁধের ভিতরের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়বে। এখন যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে এই বর্ষা মৌসুমেই বিলীন হয়ে যেতে পারে ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধের বাকি অংশ।

কুয়াকাটার একাধিক মানুষ জানান, বাঁধ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে বর্ষা মেীসুম শুরুর সাথে সাথে। কিন্তু গত পাঁচদিনে বেশি ভেঙ্গেছে। সাগরের জোয়ারে বাঁধ রক্ষার ব্লক ভেঙ্গে সৈকতে পড়ে যাচ্ছে। ভেঙ্গে পড়েছে বাঁধের উপর লাগানো গাছ। কিন্তুু এখনও বাঁধ রক্ষায় কোন পদক্ষেপ কিংবা ভাঙ্গা বাঁধের স্থানে ব্লক ফেলার উদ্যেগ নেয়া হয়নি।
কুয়াকাটার একাধিক হোটেল মালিক জানান, পর্যটনকেন্দ্রের মূল আকর্ষণ বীচ। ইতিমধ্যে সাগরের ভাঙনে প্রায় তিন কিলোমিটার সৈকত বিলীন হয়ে গেছে। এখন ভাঙনের মুখে বাঁধ। এই বাঁধ ভেঙ্গে গেলে গোটা কুয়াকাটার ব্যবসায়ীরা সীমাহীন ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব শরীফ জানান, কুয়াকাটার মূল সৈকত এখন নেই বললেই চলে। সাগরে জোয়ারের সময় এখন আর সৈকতে নামতে পারেন না পর্যটকরা। আর বাঁধে যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানোর উদ্যোগ না নিলে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ হুমকির মুখে পড়বে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের জানান, কুয়াকাটা সৈকত রক্ষার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই কুয়াকাটা সৈকত ও বাঁধ রক্ষার কাজ শুরু করা হবে।