স্টেডিয়ামে বসে তৃতীয় ওয়ানডে দেখবেন মুস্তাফিজের বাবা-মা

প্রতিনিধি, খুলনা: সবার আদরের মুস্তাফিজুরের পরিবার চেয়ে ছিল তাকে ডাক্তার বানাবে। কিন্তু মুস্তাফিজ হয়ে গেলেন ক্রিকেটার। ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম দুই ওয়ানডেতে তার পারফর্ম্যান্সে তার বাবা-মাসহ গোটা পরিবার ভীষণ উচ্ছ্বসিত। বাবা-মাসহ গর্বিত এ পরিবারের সদস্যরা আজ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বসে বাংলাদেশের খেলা দেখবেন।

mustafiz parent

মুস্তাফিজের বাবা-মা।

মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা কালীগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া গ্রাম থেকে খুলনায় এসেছেন মুস্তাফিজুরের বাবা আলহাজ্ব আবুল কাশেম গাজী। খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার বাড়িতে বড় ভাইয়ের বাসায় আগে থেকেই মুস্তাফিজের মা মাহমুদা খাতুন অবস্থান করছেন। বড় ভাই গ্রামীণফোনের কর্মী মাহফুজুর রহমান মিঠু বললেন, ‌’বুধবার শেষ ম্যাচে আমরা পরিবারের সকলেই মিরপুরের মাঠে বসে  দেখবো। ইতোমধ্যে টিকিট নিশ্চিত হয়েছে।’ তিনি আরো জানান, তার পিতা-মাতাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও খেলা দেখবেন। মিঠু বলেন, আগের দুটি ম্যাচ মা মাহমুদা খাতুন তার বাসায় বসে দেখেছেন। বাবা গ্রামের বাড়িতে খেলা দেখেছেন।

চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মুস্তাফিজুর সবার ছোট। তার অপর তিন ভাইও স্থানীয়ভাবে ভালো ক্রিকেটার। ভাইদের দেখে তিনিক্রিকেটের প্রতি আরো ঝুঁকে পড়েন।

মুস্তাফিজুরের মা জানান, ছেলের খেলায় আমি খুশি, ছেলে আরো ভালো করুক ও দেশ জিতে যাক এই কামনা করি। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। প্রথম দিনের খেলার সময়ে ধোনির ধাক্কা খেয়ে বাইরে চলে যাওয়ার পর মাসহ পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত হয়ে পড়েন — না জানি বড় ধরনে কোনো ইনজুরিতে পড়ে যায় এটা ভেবে। কিন্তু পরে ফিরে আসায় এবং পর পর দুই ম্যাচে সাফল্য আর বিশ্ব রেকর্ডের কারণে গোটা পরিবার এখন খুশি। মুস্তাফিজুরের ভাবী ডাক্তার তানিয়া সুলতানা জানান, ‌’মুস্তাফিজ এখন শুধু আমাদের পরিবারের গর্ব নয়, সে দেশের গর্ব।’ শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতে যাক এই কামনা তিনি করেন।

মুস্তাফিজুরের বাবা বললেন, ‘মুস্তাফিজুর এখন শুধু আমার ছেলে নয়, সে ১৬ কোটি মানুষের ছেলে। সে আরো ভালো করুক।’ তবে কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, আমার মনে বিশ্বাস ছিল মুস্তাফিজ ভালো করবে। একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের মতো মুস্তাফিজুরের পিতা বললেন, আমার ধারণা ছিল যে মুস্তাফিজুরের বল কোনো অচেনা খেলোয়াড় স্বাভাবিকভাবে খেলতে পারবে না। ভারতের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানরা তার বলের সাথে পরিচিত নয়। তাই সফলতা আসবেই। তবে এতো ভাল করবে তা তিনি ভাবেননি।