শেরপুরে নারী নির্যাতন মামলায় প্রধান শিক্ষক শ্রীঘরে

শেরপুর থেকে হাকিম বাবুল: নারী নির্যাতন মামলায় শেরপুর মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে (৫২) শ্রীঘরে পাঠিয়েছে শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত।  মঙ্গলবার দুপুরে জাহাঙ্গীর আলম আদালতে হাজির হলে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইদুর রহমান খাঁন।

Sherpur Pic-3
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্ত্রী থাকা স্বত্ত্বেও প্রায় দুই বছর আগে ওই বিদ্যালয়ের এক সহকারি শিক্ষিকাকে (৪০) ধর্ষণের চেষ্টা করেন। দুই সন্তানের জননী ওই সহকারি শিক্ষিকা ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় ওই সহকারি শিক্ষিকার স্বামী তাকে তালাক দিলে প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম মামলা তুলে নেওয়ার শর্তে ২০১৩ সালের ২৪ মে তাকে বিয়ে করেন। গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি নিস্পত্তি হয়। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তির পরই তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। এরপর থেকে স্ত্রীর উপর নির্যাতন চালিয়ে তাকে তালাক নেওয়ার দাবি করে প্রধান শিক্ষক। কিন্তু শিক্ষিকা রাজি না হওয়ায় গত ৬ মার্চ গোপনে স্ত্রীকে তালাক দেয় জাহাঙ্গীর আলম। ঘটনা জানতে পেরে পরে যৌতুকের জন্য মারপিট করার অভিযোগ তুলে গত ১৬ জুন আদালতে স্বামী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন ওই শিক্ষিকা। ওই মামলার তদন্ত শেষে আদালত সমন জারি করলে ৩০জুন মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রর্থনা করলে আদালত তার জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী সহকারি শিক্ষিকা বলেন, অমানুষিক নির্যাতন করে প্রতারক জাহাঙ্গীর আমার জীবনটাকে শেষ করে দিয়েছে। আমি বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। ওর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আদালত থেকে জেলা কারাগারে নেওয়ার পথে প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের শিকার।

শেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু বলেন, একজন প্রধান শিক্ষক এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত থাকলে শিক্ষকের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিৎ।