দিনাজপুরে সোনার দোকানে ডাকাতি, ৩৬ লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার লুট

দিনাজপুর থেকে রতন সিং: দিনাজপুর শহরের চকবাজারে জড়োয়া ঘর সোনার দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত লুণ্ঠিত ৩৬ লক্ষ টাকা মূল্যের ৮০ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার হয়নি। শহরের অদূরে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের সদর উপজেলার চুনিয়াপাড়ায় দুইটি কালো মুখোশ ও গহনার ৪০টি বাক্স পাওয়া গেছে।

_DSC0745 copy

দিনাজপুরে সোনার দোকান জড়োয়া ঘরে ডাকাতি করে ৩৬ লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার লুট

দিনাজপুর পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানায়, বৃহস্পতিবার ইফতারির সময় শহরের সোনার মার্কেট চকবাজারের জুয়েলারী জড়োয়া ঘরে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়। ঠিক ইফতারের সময় ১০ থেকে ১২ জন কালো মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাতদল অসংখ্য ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সোনার দোকান জড়োয়া ঘরে প্রবেশ করে কর্মচারী ও শ্রমিকদের জিম্মি করে ফেলে। ডাকাতেরা রিভলবার ও চাপাতি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। ডাকাতদের চাপাতির হামলায় দোকানের শ্রমিক নয়ন, রনি ও ম্যানেজার গোপাল রায় গুরুতরভাবে আহত হন। এদের মধ্যে নয়নকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
_DSC0741 copy
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ডাকাতরা ২৫/৩০টি শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণ করে সমগ্র এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে ডাকাতি সম্পন্ন করে তারা সিলভার রংয়ের একটি মাইক্রোবাসে নিরাপদে পালিয়ে যায়। মাইক্রোর নাম্বার প্লেটটি সাদা কাগজ দিয়ে ঢাকা ছিল। ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় উপর্যুপুরি ককটেল বিস্ফোরণ করে শহরের বাঞ্চারামপুল বালুবাড়ী দিয়ে দ্রুতগতিতে মাইক্রোযোগে চলে যায়। পুলিশ সোনার দোকানের কাছে  ডাকাতদের ফেলে যাওয়া ব্যাগ থেকে ১২টি তাজা ককটেল এবং পাশের ড্রেন থেকে আরো ৫টি শক্তিশালী ককটেল উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত ১৭টি ককটেল পরে কোতয়ালী থানায় পানির বালতিতে নিস্ক্রিয় করা হয়।

বিস্ফোরণের পরপরই চকবাজার আহলে হাদিস মসজিদের প্রায় ৪শ মুসল্লি ও এলাকার অসংখ্য মানুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এক পর্যায়ে রটে যায় যে, জড়োয়া ঘর থেকে প্রায় ২শ গজ দূরে আবাসিক হোটেল মৃগয়ায় ডাকাত দলের দুই জন সদস্য আশ্রয় নিয়েছে। উত্তেজিত জনতা মৃগয়া হোটেলের দুইটি ভবনে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। ঘটনার ৪৫ মিনিট পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়। জনতার দাবির মুখে রাত ১০টা পর্যন্ত মৃগয়া হোটেলের দুইটি ভবনের প্রত্যেকটি কক্ষসহ ছাদ ও অন্যান্য স্থাপনায় পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ব্যাপক তল্লাশী চালায়। এরপর রাত সাড়ে ১০টায় কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) আবুল হাসনাত ঘোষণা করেন হোটেলে কোনও ডাকাত দলের সদস্য পাওয়া যায়নি।

জড়োয়া ঘরের স্বত্বাধিকারী জগবন্ধু রায় জানান, অনুমান করা হচ্ছে ৩৬ লক্ষ টাকার ৮০ ভরি স্বর্ণালংকার ডাকাতরা লুট করে নিয়েছে। শুক্রবার বিকেলে কোতয়ালী থানায় জড়োয়া ঘরের পক্ষ থেকে মামলা করেন দোকানের ম্যানেজার গোপাল রায়।

কোতয়ালী থানার ওসি খালেকুজ্জামান পিপিএম জানান, শুক্রবার ভোরে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের সদর উপজেলার চুনিয়াপাড়া থেকে ৪০টি গহনার বাক্স ও দুইটি কালো মুখোশ এলাকাবাসী উদ্ধার করে পুলিশের কাছে জমা দেন। তিনি জানান, সোনার দোকানে ডাকাতির সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও থানায় তার বার্তা প্রেরণ করে জোরদার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।