সন্ত্রাসী লেলিয়ে গফরগাঁওয়ে কলেজ বন্ধ করে দিল পরিচালনা কমিটি

আতাউর রহমান মিন্টু, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ): গফরগাঁও শহরে একটি কারিগরি কলেজে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে কলেজটিতে তালা মেরে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

কলেজ পরিচালনা কমিটির লোকজন কলেজটি উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে এ কাজটি করে বলে অভিযোগ করেছেন কলেজের ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

এতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে কলেজের দেড়শতাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের লোকজন এ ঘটনার প্রতিকারে কোনও উদ্যোগ নেয়নি।

শহরের ব্যস্ততম জামতলা মোড়ে গফরগাঁও টেকনিক্যাল এ্যান্ড বিএম কলেজে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবসা শিক্ষা শাখায় কম্পিউটার অপারেশন ও সেক্রেটেরিয়াল সায়েন্স বিষয়ে প্রায় দেড়শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বর্তমানে কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলছে।

সোমবার সকালে কলেজের ছাত্র-শিক্ষক কলেজে এসে দেখতে পায় কলেজে তালা মারা, সাইনবোর্ড উধাও। কলেজ ভবনের টিনের বেড়াগুলো রামদার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত। কলেজে ভাঙচুর ও লুটপাটের চিহ্ন।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেলে ২০/২২ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী কলেজে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে কলেজে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা কলেজে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ এ মর্মে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতির একটি নোটিশ কলেজের প্রধান ফটকে টানিয়ে দেয়।

gafargaon college shutdown
কলেজ আর চলবে না এই মর্মে কলেজের সামনে নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

২০০৪ সালে খালেক-আমিন ফাউন্ডেশন কলেজটি প্রতিষ্ঠা করে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কলেজটির অনুমোদন দেয়। ফাউন্ডেশন এবং কলেজ পরিচালনা কমিটির লোকজন কলেজের নিজস্ব সম্পত্তিতে ভবন নির্মাণের জন্য ১০ বছর আগে কলেজের ১১জন শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে দুই দফায় ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ডোনেশন নেয়। ২০১২ সালে কলেজ পারিচালনা কমিটির লোকজন ‘এমপিওভুক্তির’ খরচ বাবদ কলেজ ফান্ডের আরও ৪ লাখ টাকা নেয়।

এদিকে কলেজটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে। কম্পিউটার অপারেশন শাখার দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মৌসুমী আক্তার বলে, কলেজটি বন্ধ হয়ে গেলে এ কলেজে অধ্যয়নরত দেড়শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন শেষ হয়ে যাবে। কলেজের নৈশপ্রহরী হক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ১৫ শতাংশ জমি বিক্রি করে ১ লাখ টাকা দিয়ে ১০ বছর পূর্বে চাকুরী নিয়েছিলাম এখন কলেজটি বন্ধ হয়ে গেলে ভিক্ষা করে সংসার চালাতে হবে।

কলেজের অফিস সহকারী সুরুজ মিয়া বলেন, কলেজটি পরিচালনা কমিটির লোকজনের জন্য আর লাভজনক নয় এই অজুহাত দেখিয়ে গত এক বছর যাবত আমাদেরকে কলেজ ছেড়ে যেতে বলছে এবং কলেজটি বন্ধ করে দিতে বলছে।

কলেজের অধ্যক্ষ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা কমিটির লোকজন বেশ কিছু দিন যাবত কলেজটি উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে আমাদেরকে কলেজ থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হুমকি দিয়ে আসছিল। কলেজ ভাঙচুর ও লুটপাট করে নেওয়ার পর থানা পুলিশের শরণাপন্ন হলেও তারা কোন ভূমিকা নেয়নি।

কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, কলেজে প্রয়োজনীয় শ্রেণি কক্ষ, অফিস কক্ষ, কম্পিউটার ল্যাব ও লাইব্রেরি এবং ভৌত অবকাঠামো না থাকায় কলেজটি বন্ধ করে দেওয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর কুন্ডু বলেন, দুই পক্ষের দরখাস্ত পেয়েছি। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।