পানিতে তলিয়ে গেছে মংলা শহর, লঘুচাপ ঝরাবে আরও বৃষ্টি

Exif_JPEG_420

জাহিবা হোসাইন, মংলা (বাগেরহাট): বুধবার দিনভর ভারী বৃষ্টিতে ফলে মংলা শহরসহ পৌরসভা এলাকার অধিকাংশ আবাসিক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা, শহরের মধ্যে তিনটি খালে স্লুইস গেট নির্মাণ ও ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি নামতে না পারায় এলাকায় দেখা দিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। এ অবস্থায় পানি বন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।

Exif_JPEG_420

পানিতে তলিয়ে গেছে মংলার অধিকাংশ এলাকা।

শহরতলীর নিম্মাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার বাড়ি-ঘরে পানিতে থৈ থৈ করছে। কোনও কোনও এলাকার বসতঘরের মধ্যেও হাঁটুপানি। পানিবন্দি কয়েক হাজার পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পানি নিস্কাশনের তেমন কোন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টি ও জলবদ্ধতার কারণে শ্রমজীবীদের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের মাঝে চাল বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

শহরের কুমারখালী, ঠাকুর রানী ও কাইনমারী খালে স্লুইস গেট নির্মাণ কাজ চলার ফলে খালের উপর বাঁধ দিয়ে রাখা হয়েছে। এতে পৌর এলাকার পানি বেরুতে পারছে না। বাঁধের মধ্যে চিকন পাইপ বসানো হলেও তা দিয়ে ঠিকভাবে পানি নামছে না। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন সড়কে নির্মাণ কাজ চলায় অধিকাংশ ড্রেন বন্ধ করে রাখা হয়েছে।  অপরদিকে পৌরসভার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এখন পর্যন্ত কোন ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি।

শহরতলীর শেলাবুনিয়া, কুমারখালী, মিয়া পাড়া, জয় বাংলা, চরকানা, সিগনাল টাওয়ার, পূর্ব কবরস্থান রোডসহ অধিকাংশ আবাসিক এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে অবর্ণণীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অনেক এলাকার রাস্তা-ঘাট পানিতে ডুবে আছে।  আবাসিক এলাকার পুকুর, বাড়ির উঠানসহ সব কিছু পানির নিচে। রান্না করার জায়গা পর্যন্ত নেই অনেক জায়গাতে। গৃহপালিত পশু ও হাঁস-মুরগি ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষজন

মংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র জুলফিকার আলী বলেন, পানি নিস্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আলাউদ্দিন বলেন, বুধবার সকালে আমি জলাবদ্ধ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখে এসেছি। পানি নামানোর জন্য পাইপ বসিয়ে কিংবা ড্রেন কেটে পানি সরোনোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, খালের বাঁধ থাকায় পানি নামতে পারছে না। পানি নামানোর যে পাইপ রয়েছে জোয়ারের সময় তা দিয়ে পানি ঢুকে পড়ায় জলাবদ্ধতা কমছে না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আলী প্রিন্স জানান, টানা বৃষ্টিপাত ও বৃষ্টির পানিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় দরিদ্র লোকজন কাজ-কর্ম করতে পারছে না। তাই পানিবন্দি গরিব লোকজনের মধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। আরো ত্রাণ সহায়তা প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

মৌসুমী লঘুচাপের কারণে বন্দরে ৩ নম্বর সর্তকতা সংকেত

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমী লঘুচাপের কারণে মংলা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। লঘুচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সঞ্চরণশীল মেঘমালা সৃষ্টির হয়েছে। ফলে বুধবার ভোর থেকে মংলাসহ আশপাশের উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে দমকা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়া ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মংলা বন্দরের জেটি, পশুর চ্যানেল ও বহিনোঙ্গরে অবস্থানরত সকল দেশী-বিদেশী জাহাজের পণ্য বোঝাই ও খালাস মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সাগর উত্তাল থাকায় সাগর-নদী ও সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা  ট্রলার ও নৌকা নিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।