রূপসা-বাগেরহাট পুরাতন সড়কে তীব্র ভাঙ্গন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের আশঙ্কা

বাগেরহাট প্রতিনিধি: রুপসা-বাগেরহাট পুরাতন সড়ক ও সংলগ্ন যাত্রাপুর এলাকায় এক কিলোমিটার জুড়ে ভৈরব নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙ্গনে ওই এলাকার বসতবাড়িরসহ বহু স্থাপনা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ফলে জেলা সদরের সাথে ফকিরহাট, যাত্রাপুর হয়ে খুলনা-রুপসার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যাত্রাপুর, চাপাতলা, পূর্বপাড়া, লাউপালাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটচ্ছে।

Bagerhat Photo-1 (09-7-15)

রূপসা-বাগেরহাট পুরাতন সড়কে এক কিলোমিটার জুড়ে তীব্র ভাঙ্গন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের আশঙ্কা

ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত মো. আব্দুল মালেক, লাউপালা গ্রামের ব্যবসায়ী এস এম আব্দুল্লা, তুষার ভট্র, সুশঙ্কর ভক্ত, আব্দুল বাচ্চু জানান, ভাঙ্গনে বাপ-দাদার সম্পত্তি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। প্রতি বছর বর্ষায় ভাঙ্গন তীব্র হয়, আর আমরা চরম আতঙ্কে থাকি। এ সড়কের গাড়ি চালক আব্দুল সালাম বলেন, দীর্ঘ ২০বছর ধরে এই সড়কে গাড়ি চালই। কিন্তু এখন যে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে, তাতে দুই একদিনের মধ্যে সড়কটি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

যাত্রাপুর ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা আসনের (১, ২, ৩ নং ওয়ার্ড) সদস্য নাজমা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভৈরব নদীর ভাঙ্গনে এই এলাকার শত শত বাড়ি-ঘর, পানের বরাজ, কারখানা, গাছ-পালা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। কিন্তু এর কোনও প্রতিকার হচ্ছে না। চলতি বর্ষা মৌসুমে আবারো ভাঙ্গন তীব্র হয়েছে।

যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, জেলা সদরের সাথে রূপসার যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পুরাতন সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত অর্ধ-লক্ষ লোক যাতায়াত করে। ঢাকাগামী পরিবহনসহ প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের প্রায় সহস্রাধিক যানবাহন চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুির। নতুবা আরও মারাত্মক ক্ষতি হবে, দুর্ভোগে পড়বে হাজার হাজার মানুষ।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাইনদ্দীন বলেন, ভাঙ্গনরোধে গত বছরও আমরা ওই এলাকায় বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী প্রতিরক্ষার কাজ করেছি। কিন্তু বছর না পেরুতেই আবারো সেখানে তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গনরোধে সড়ক সংলগ্ন এক কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় একটি স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ জরুরি। একাধিকবার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাবর প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।