একরাশ হতাশায় ঈদ কাটে চা শ্রমিকদের

আজিজুল ইসলাম, মৌলভীবাজার: একরাশ হতাশা নিয়ে ঈদ কাটায় মৌলভীবাজারের মুসলমান চা শ্রমিকরা। স্বল্পতম মজুরির চা শ্রমিকদের কেউ কেউ ঈদে সামান্য উৎসব ভাতা পায়। যেসব বাগানে মুসলমান শ্রমিকরা সংখ্যায় বেশি তারা এই ঈদ উপহার পেলেও যেসব বাগানে অমুসলিম শ্রমিকরা সংখ্যাগুরু সেখানে ঈদ বোনাসের রেওয়াজ নেই। চা শ্রমিকদের কারো কারো কাছে কাছে ঈদ সামান্য আনন্দের উপলক্ষ হলেও বেশিরভাগের জন্য হতাশার।

tea garden Eid

কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নিচ্ছেন একটি বাগানের নারী শ্রমিকরা।

কিরণমালা, মহারানী, কটকটি, পাখি ইত্যাদি ড্রেস সারাদেশের ঈদের বাজারে কারণে-অকারণে বিস্তর খ্যাতি পেয়েছে। কিন্তু দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে চা শ্রমিকদের কাছে এসব নাম অশ্রুত।

মাত্র ৬৯ টাকা মজুরি দিয়ে যেখানে পেট চালানোই দায় সেখানে ঈদে একটু বাড়তি আনন্দ অনেক দূরের স্বপ্ন। পাহাড় আর টিলার নিচে চাপা পড়ে যায় তাদের নীরব দীর্ঘশ্বাস।

মৌলভীবাজারের শুধুমাত্র রাজনগর উপজেলায় ১৩টি চা বাগানে মুসলমান শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। একমাত্র ইটা চা বাগানের ৯০ ভাগ শ্রমিক মুসলমান। তাছাড়া কুলাউড়া উপজেলার আছকরাবাদ ও মুরইছড়া চা বাগানে রয়েছে মুসলমান চা শ্রমিক। দৈনিক ৬৯ টাকা মজুরি ও মুসলমান শ্রমিক অধ্যুষিত বাগানে ঈদে ৬০০-৭০০ টাকা বোনাস পায় শ্রমিকরা। এ টাকা দিয়ে পরিবার চালানোই কষ্টকর। ২৫০-৩০০ টাকা দিয়ে বাচ্চাদের ঈদের জামা কিনে দেওয়া কঠিন। পুরানো কাপড় ধোলাই করেই ঈদ উদযাপন করে তারা।

অমুসলিম প্রধান বাগানগুলোতে যেসব মুসলমান চা শ্রমিক কাজ করে ঈদে তাদের কোনও বোনাস দেওয়া হয় না। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে শ্রমিকদের মাঝে।

সরেজমিন কয়েকটি চা বাগানে দিয়ে দেখা যায় চা শ্রমিকরা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত। বাগানগুলোর মুসলিম প্রধান গলিগুলোতে ঈদের কোনও আমেজ নেই। শিশুরা যে যার মতো খেলায় ব্যস্ত। শিশুরা জানায়, তাদের বাবা-মা বাগানে কাজ করে। তবে ঈদে শুধু পিতার কাছে নতুন জামার বায়না তাদের।

উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ইটা চা বাগানের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী শারমিন আখতার (১০) জানায়, এবার ঈদে এখনো নতুন কোনও জামা কেনা হয়নি। সে একটি নতুন জামা চেয়েছে। সে জানে না ঈদে তার জন্য নতুন জামা কেনা হবে কি না।

ইটা চা বাগানের শ্রমিক শাহ আলম (৩৪) বলেন, আমার পরিবারে লোক সংখ্যা নয়জন। আমরা স্বামী-স্ত্রী বাগানের শ্রমিক। ৬৯ টাকা দৈনিক মুজুরি দিয়ে নয়জনের পরিবার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। এই ঈদে বোনাস পেলাম ৮৯৭ টাকা। এ টাকা দিয়ে বলেন ঈদে কার জন্য কী কিনি!

করিমপুর চা বাগানের শ্রমিক বেলাল আহমদ (৩২) জানান, আমার পরিবারে আমি একাই শ্রমিক। আমাদের বাগানে মুসলিম প্রধান না হওয়ায় ঈদে কোনও বোনাস পাওয়া যায় না। বাচ্চারা ঈদে নতুন জামা চায়–কীভাবে দেই বলেন! আমার আট বছরের মেয়ে মাইশা এবার ঈদে কিরণমালা জামার আবদার করেছে। এই জামার দাম জানা নেই। কীভাবে তাকে জামা দেই?

উদনা চা বাগানের শরাফত আলী জানান, ঈদে কোনও বোনাাস নেই। তিনবেলা খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই কষ্টকর। ঈদ আনন্দ কী আমরা বলতে পারি না। ঈদে শিশুদের বায়নামতো জামা-কাপড় দেওয়া কষ্টকর।