রাজনগরে বন্যার কারণে অন্যের বাড়িতে চলছে পাঠদান

মৌলভীবাজার থেকে আজিজুল ইসলাম: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান। অন্যের বাড়ির বারান্দায় চলছে লেখাপড়া।

primary school-3

রাজনগরে বন্যার কারণে অন্যের বাড়িতে চলছে পাঠদান

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার বৃহত্তম কাউয়াদীঘি হাওরে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে আশি’র দশকে। হাওরের অতিরিক্ত পানি সেচ দেওয়ার জন্য কাশিমপুরে স্থাপন করা হয় পাম্প হাউজ। কিন্তু অতিবৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও পাউবোর নিয়ন্ত্রণাধীন পাম্প হাউজ সময়মতো পানি নিষ্কাশনে সেচ না দেওয়ায় হাওরে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। এতে রোপা আমনের পাশাপাশি পানিবন্দি হয়ে পড়ে ওই ইউনিয়নগুলোর দুই শতাধিক গ্রাম।

primary school-1

পানিবন্দি ফতেহপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

এছাড়াও ফতেহপুর ইউনিয়নের ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিবন্দি হয়ে পড়ে। পানিবন্দি বিদ্যালয়গুলো হলো ফতেহপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাহিদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নতুন সুনাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ অন্তেহরি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চালবন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহবাজপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আব্দুল্লাহপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এগুলোর মধ্যে ফতেহপুর, জাহিদপুর ও নতুন সুনাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়েছে। ফতেহপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে ওই গ্রামের হাজী সরফরাজ চৌধুরীর পরিত্যক্ত বাড়ির বারান্দায়। বিদ্যালয়গুলো পানিবন্দি হয়ে পড়ায় ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিতি কমে এসেছে। ফলে বিঘিœত হচ্ছে লেখাপড়া।

ফতেহপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান জানান, হাওরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার বিদ্যালয় পানিতে ডুবে গেছে। ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে, তিনি বিদ্যালয় বন্ধ না করে অন্য কোথায়ও ক্লাস নেওয়ার কথা বলেছেন। পরে গ্রামের সরফরাজ চৌধুরীর বাড়ির বারান্দায় বিদ্যালয়ের ক্লাস চালাচ্ছি।

আব্দুল্লাহপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন পানি ঢুকেছে। পাঠদান চালাতে হচ্ছে অন্য ভবনে। এতে প্রাথমিকের ক্লাস রুমে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নিতে হচ্ছে। এক রুমে ছাত্র-ছাত্রীরা বসায় গাদাগাদি হচ্ছে। ব্যাঘাত ঘটছে লেখাপড়ায়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হেমেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ জানান, শিক্ষকগণ বিষয়টি আমাকে জানানোর পর একজন সহকারি শিক্ষা অফিসারকে পাঠিয়েছিলাম। পানিবন্দি হওয়ায় অন্যের বাড়িতে লেখাপড়া চলছে।