শেরপুরে অপহৃত শিশু ৪ দিনেও উদ্ধার হয়নি, ৩ আসামি রিমান্ডে

শেরপুর থেকে হাকিম বাবুল: শেরপুর শহর থেকে অপহৃত স্কুলছাত্র ৮ বছরের শিশু আরাফাত ইসলাম চার দিনেও উদ্ধার হয়নি। অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আদালতের সিএসআই আব্দুল আজিজ জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওই তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বুধবার আদালতে সোপর্দ করেন।

Sisu Opohorob-Asami Remand Photo-2 copy

গ্রেফতারকৃত তিন আসামি। ইনসেটে অপহৃত শিশু আরাফাত

শুনানি শেষে শেরপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুর রহমান তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

যাদের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে তারা হলেন, শেরপুর সদর উপজেলার বয়ড়াপরাণপুর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে এবং অপহৃত শিশুর খালু মো. আব্দুল লতিফ (২২), একই গ্রামের লতিফের বন্ধু ফারুক মিয়ার ছেলে রবিন (২০) এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী পশ্চিমপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ইমরান হাসান (২১)। পুলিশ ওই তিন জনকে মঙ্গলবার বিকেলে এবং বুধবার ভোরে গ্রেফতার করে। এদিকে ওই শিশু অপহরণের চারদিন পরও  উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

শিশু রাহাত শেরপুর জেলা শহরের বিপ্লব-লোপা মেমোরিয়াল গালর্স স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র এবং শহরের গৃর্দানারায়ণপুর এলাকার মো. শহিদুল ইসলাম খোকন এর ছেলে। খোকন কাঠের আসবাবপত্র ব্যবসায়ী।

গত ২ আগস্ট রোববার দুপুরে গৃদানারায়নপুর এলাকা থেকে শিশু রাহাতকে তার খালু আব্দুল লতিফসহ কয়েকজন অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং মোবাইল ফোনে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ওইদিনই শিশু রাহাতের বাবা ঘটনাটি পুলিশকে জানান এবং পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে  প্রযুক্তি ব্যবহারসহ অন্যান্য কৌশল অবলম্বন করে ওই শিশুকে উদ্ধারে জন্য তৎপর হয়ে উঠে।

এ ঘটনায় ৪ আগস্ট মঙ্গলবার অপহৃত ওই শিশুর বাবা শহিদুল ইসলাম খোকন তিনজনের নামে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে, রাহাত অপহৃত হওয়ায় তাঁর বাবা খোকন ও মা রিনা বেগমসহ স্বজনরা ভেঙ্গে পড়েছেন এবং কান্নাকাটি করছেন। শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল করিম মঙ্গলবার  জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ অপহৃত রাহাতকে উদ্ধারের জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে।