রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে তৈরি হচ্ছে গ্রিন সিটি, দক্ষিণাঞ্চলেও হবে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র

MINOLTA DIGITAL CAMERA

স্বপন কুমার কুন্ডু, ঈশ্বরদী (পাবনা): রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে অত্যাধুনিক গ্রিন সিটি নির্মাণকে কেন্দ্র করে শুক্রবার প্রকল্প এলাকায় আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. সিরাজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাশিয়ান ফেডারেশনের এ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মূল প্রকল্প এলাকার পাশে স্বাধীনতার পূর্বে নতুনহাট এলাকায় অধিগ্রহণকৃত ৩১.৫৮ একর জমির একাংশে দুই হাজার মানুষের আবাসনের জন্য এই গ্রিন সিটি নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনেরও একটি অফিস এখানে নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ান ফেডারেশনের এ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট এই সিটি নির্মাণ করবে। প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ান বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা এখানে বসবাস করবেন। প্রকল্প চুড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের পর রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ এই সিটি বাংলাদেশ সরকারকে হস্তান্তর করবেন বলে সভার সূত্র জানিয়েছে।

সভায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সদস্য (প্রকৌশল) মঞ্জুরুল হক, রূপপুর প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. শওকত হোসেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব, নির্বাহী প্রকৌশলী মাওদুদুর রহমান, স্থাপত্য অধিদপ্তরের সহ-প্রধান স্থপতি আলী আশরাফ দেওয়ান, সহকারী স্থপতি নাসির উদ্দিন দিদার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফিরোজ আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম সেলিম, সহকারী পুলিশ সুপার যাহিদ হোসেন, প্রকল্পের অফিসার ইন চার্জ রুহুল আমিন, মাঠ পর্যায়ের গণপূর্ত শাখার এসডিই আব্দুল লতিফ খান এবং রাশিয়ানদের পক্ষে পাভেল গ্লোসেভসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

MINOLTA DIGITAL CAMERA

কর্মকর্তারা গ্রিন সিটির জন্য নির্ধারিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

সভা শেষে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গ্রিন সিটির জন্য নির্ধারিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এসময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. সিরাজুল ইসলাম খান প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি প্রসংগে এ প্রতিবেদককে জানান, পৃথিবীতে এ যাবত সংঘটিত সব দুর্ঘটনার সকল ফ্যাক্টর বিবেচনা করে ১২০০-২০০০ মেগাওয়াট সম্পন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের কাজ বেঁধে দেয়া টাইম ফ্রেম অনুযায়ী এগিয়ে চলেছে। ঝুঁকি মোকাবেলা করার জন্য সকল ব্যবস্থাই এখানে রাখা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলেও আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই হাতে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।