রায়পুরে পৈতৃক জমি নিয়ে প্রতারণা, হয়রানির শিকার সম্পত্তিবঞ্চিত ভাইয়েরা

মো. মাহবুবুল আলম মিন্টু, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর): সুচতুর চার ভাই মিলে সুকৌশলে বাবা-মায়ের সম্পত্তি নিজেদের নামে করিয়ে নিয়েছেন। প্রতারণা করে অন্য দুই ভাইকে বঞ্চিত করে পৈতৃক সম্পত্তির পুরোটাই জবরদখল করেছেন তারা। এখন আবার বঞ্চিত দুই ভাইয়ের কেনা সম্পত্তিও গ্রাস করতে চাইছেন তারা।

চার ভাইয়ের প্রতারণা, জমি আত্মসাৎ, বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়াসহ নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। সম্পত্তি থেকে শুধু বিতাড়িত করেই ক্ষান্ত হয়নি চার ভাই, এখন তারা অন্য ভাইদের তাদের কেনা সম্পত্তি থেকেও উচ্ছেদের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন চেষ্টা চালিয়েও এ বিরোধের কোনো সুরাহা করতে পারেননি।

এ ঘটনা লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ বাজারের পন্ডিত আলী মোল্লাবাড়ির। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় বাগ-বিতণ্ডা হয়েছে। মীমাংসার জন্য সালিশ-বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু এক ভাই থাকলে অন্য ভাই জমির মাপার সময় না থাকায় বিরোধ নিষ্পত্তি হচ্ছে না।

সম্পত্তিবঞ্চিতরা হলেন মৃত পন্ডিত আলী মোল্লার ছেলে মুসলিম মোল্লা ও তছলিম উদ্দিন মোল্লা। আত্মসাৎকারী হিসেবে অভিযুক্ত চার ভাই হলেন তোফায়েল মোল্লা, আবুল কালাম মোল্লা, দুলাল মোল্লা ও সিরাজ মোল্লা।

land grabbing at raipur
দুলালের মৃত্যুর পর এসব দোকানঘরগুলোও দখল করে নেন তোফায়েল।

ক্ষতিগ্রস্ত মুসলিম মোল্লা ও তার ছেলে মো. ফারুক মোল্লা জানান, পন্ডিত আলী মোল্লার ছয় ছেলে ও তিন মেয়ে। ছেলেরা হলেন তছলিম উদ্দিন মোল্লা, মুসলিম মোল্লা, আবুল কালাম মোল্লা, তোফায়েল মোল্লা, দুলাল মোল্লা (মৃত) ও সিরাজ মোল্লা। মুসলিম ও তছলিমের অনুপস্থিতির সুযোগে অন্য চার ভাই বাবাকে প্রতারিত করে সব পৈত্রিক জমি তাদের নামে লিখিয়ে নেন। মুসলিম মোল্লা ও তছলিমকে জমি দিতে অস্বীকৃতি জানায় ওই ভাইরা। নিরুপায় মুসলিম বোনদের সম্পত্তি ক্রয় করে বসবাস করছেন। ওই সম্পত্তিও এখন গ্রাস করার জন্য তোফায়েল উঠেপড়ে লেগেছেন।

তাদের মা ফয়জরনেছা ২.৮১ শতাংশ জমির মালিক হন। মায়ের সাথেও প্রতারণা করে অভিযুক্ত ভাইদের তিনজন নিজেদের নামে জমি লিখিয়ে নেন। দুলালের মৃত্যুর পর তোফায়েল তার সম্পত্তিও দখল করেন। দুলালের দুই ছেলে ও এক মেয়ে থাকলেও তাদেরকে কোনো জমি দেওয়া হয়নি। দুলালের নির্মিত পাঁচটি দোকানও তারা দখল করে নিয়েছেন।

সোমবার তোফায়েলের লোকজন মুসলিম মোল্লার ছেলে ফারুকের ভবনের পিছনে ওয়াল ঘেষে খুঁটি গেড়ে জবরদখলের চেষ্টা চালায়। ওই সময় মুসলিমের পরিবার বাধা দিলে জবরদখল ব্যাহত হয়। তোফায়েলের পুত্রবধূ নিশি আক্তারের কয়েকজন আত্মীয়স্বজন বাড়িতে গিয়ে মহড়া ও হুমকি  দেয়। ওই সময় এমপি বাজারের এক ছেলে ও নিশি আক্তার তাদের ঘরের বেড়াগুলো টেনেহেঁচড়ে ও কুপিয়ে ভাংচুর করে চিৎকার দেয়। শুধু তাই নয় তারা তাদের শরীরে কাটা-ছেড়ার কৃত্রিম দাগ দেখিয়ে হাসপাতালে গিয়ে সার্টিফিকেট এনে মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা সাজিয়ে হয়রানির ষড়যন্ত্র করছে বলে জানা গেছে।

হায়দরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী দুলাল হাওলাদার, বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী সাইজ উদ্দিন মোল্লা বলেন, মুসলিম ও তোফায়েলের ঘটনা নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তোফায়েল এককভাবে বাড়ির পুরো সম্পত্তি নিজের দাবি করে ভোগ দখল করায় তা সমাধান করা যায়নি। একাধিকবার জমি মাপের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তোফায়েলের অসহযোগিতায় সঠিকভাবে জমির সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে তোফায়েল মোল্লা বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। পিতা-মাতা সন্তুষ্ট হয়ে আমাদের নামে জমি সাফ কবলা করে দেওয়ায় আমরা জমির মালিক হয়েছি। কাউকে হয়রানির অভিযোগ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক।

হায়দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তোফায়েলদের অভিযোগটি আদালতের আদেশে তদন্ত চলছে। তদন্তশেষে সত্য বেরিয়ে আসবে।