ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলন

রতন সিং, দিনাজপুর: আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি পূরণ করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

বুধবার দুপুরে ফুলবাড়ী ট্রাজেডির নবম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ এ হুঁশিয়ারি দেন। সারা দেশ ও সারা বিশ্ব ফুলবাড়ীর দিকে তাকিয়ে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী এক বছর ফুলবাড়ীর বার্তা নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

জনসভায় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এক ধরনের কথা বলছেন আর সরকারের তৎপরতা চলছে অন্য ধরনের। এখানে এশিয়া এনার্জির পক্ষে জরিপ চালানো হয়েছে, এশিয়া এনার্জির গ্যারি লাই এসে খনি নিয়ে চক্রান্ত করছে, আন্দোলনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন চক্রান্ত চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশের পানিসম্পদ, ঘনবসতি জনবসতি ও আবাদি জমিতে কোনোভাবেই উন্মুক্ত খনি করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের পরিবেশ ও প্রকৃতি এবং জনসম্পদ রক্ষা করে কীভাবে কয়লার সর্বোত্তম ব্যবহার করা যায় সেটির জন্য জাতীয় সংস্থা করতে হবে। এর আগে ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করে লুটেরা কোম্পানির হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে।

জনসভায় তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলামের জুয়েলের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা টিপু বিশ্বাস, সিপিরি’র আলতাফ হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির মাহমুদুল হাসান মানিক, কমিউনিস্ট লীগের মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা এ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, ওবায়দুল্লাহ মুসা, রফিকুল ইসলাম, জোনায়েদ সাকি, আখতার খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তানজিম উদ্দিন খান, এসএমএ খালেক, শামসুল আলম, তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির ফুলবাড়ী শাখার সদস্য সচিব জয় প্রকাশ গুপ্ত, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবলু, সাবেক সদস্য সচিব এসএম নুরুজ্জামান প্রমুখ।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফুলবাড়ী বাজার থেকে সম্মিলিত পেশাজীবী সংগঠনের ব্যানারে শোকর‌্যালি বের করে ফুলবাড়ীবাসী। র‌্যালিটি শহরের ঢাকা মোড় হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ২০০৬ সালের নিহতদের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ বেদীতে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন তারা। এ সময় ফুলবাড়ী রক্ষার জন্য শপথবাক্য পাঠ হয়। পরে সংগঠনের নেতাকর্মীরা উর্বশী সিনেমা হল চত্বরে প্রতিবাদী জনসভা করেন। সেখানে সম্মিলিত পেশাজীবী সংগঠনের আহ্বায়ক মুরতুজা সরকার মানিক, সদস্য সচিব শেখ সাবির আলী, তৃণমূল চিকিৎসক সমিতির আহ্বায়ক মোখলেসুর রহমানসহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এদিকে সকাল ১১ টায় নিমতলা মোড় থেকে একটি শোকর‌্যালি বের করে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতাকর্মীরা। র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ বেদীতে পুস্পমাল্য অর্পণ করে। পরে তারা সেখান থেকে ফিরে এসে নিমতলা মোড়ে প্রতিবাদী জনসভা করেন।