এজেন্টদের খামখেয়ালি, ৫ মাস ধরে মংলায় আটকে আছে বিদেশি জাহাজ

জাহিবা হোসাইন, মংলা (বাগেরহাট): জাহাজ ভাড়াকারী প্রতিষ্ঠান সাগর শিপ ম্যানেজমেন্ট ও এম ট্রেডিংয়ের খামখেয়ালির কারণে প্রায় পাঁচ মাস ধরে মংলা বন্দরে আটকে আছে বিদেশি জাহাজ এমভি এস আটলান্টিক। এ নিয়ে আদালতের নির্দেশনাও মানেনি এসব প্রতিষ্ঠান। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে জাহাজের মালিকপক্ষ।

s atlantic
স্থানীয় এজেন্টদের অব্যবস্থাপনার কারণে পাঁচ ধরে বন্দরে আটকে আছে এস আটলান্টিক।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) আমদানি করা ২৬ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন টিএসপি সার নিয়ে  ১৫ এপ্রিল বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় ভিড়ে এমভি এস আটলান্টিক। আংশিক পণ্য খালাসের পর জাহাজটি ১৫ জুন বন্দর চ্যানেলের হাড়বাড়িয়ার ৬নং নোঙ্গরে অবস্থান নেয়। কিন্তু সার খালাস কাজে নিয়োজিত ক্যারিয়ার (পণ্য পরিবহনের জন্য নৌযান সরবরাহকারী) ও সংশ্লিষ্ট স্টিভিডরসকে (শ্রমিক ঠিকাদার) সাগর শিপ ম্যানেজমেন্ট ও এম ট্রেডিং পাওনা টাকা পরিশোধ না করার কারণে ক্যারিয়াররা পণ্য খালাস ও পরিবহনের জন্য লাইটার (নৌযান) জাহাজ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এতে জাহাজ থেকে সার খালাস বন্ধ হয়ে যায়।

সাগর শিপ ম্যানেজমেন্ট ও এম ট্রেডিংয়ের কাছে স্টিভিডরস মালিকের পাওনা প্রায় ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং ক্যারিয়ারদের পাওনা প্রায় ৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আর এই জটিলতার কারণে জাহাজটি প্রায় পাঁচ মাস ধরে এ বন্দরে পড়ে রয়েছে। এতে জাহাজ মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা বড় ধরনে আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবু হাসান।

হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবু হাসান আরো বলেন, দীর্ঘদিন জাহাজটি একই জায়গায় পড়ে থাকায় জাহাজের গায়ে লবণ ধরে মরিচা পড়ে ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি জাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। জাহাজের অনেক নাবিকও জাহাজ ছেড়ে চলে গেছে।

এদিকে মাসের পর মাস জাহাজের সার খালাস বন্ধ থাকা ও বন্দরের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থেই মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বিষয়টি সুরাহার উদ্যোগ নেন। সংশ্লিষ্টদের পাওনা পরিশোধের জন্য মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে সার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান  বিসিআইসির চেয়ারম্যানকে পত্র দিয়ে অনুরোধও করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় সার খালাস বন্ধ রাখা হয়।

জাহাজ মালিকের পক্ষ থেকে জাহাজে থাকা সার খালাস ও জাহাজটির বন্দর ত্যাগের বিষয়ে গত ২৬ জুলাই উচ্চ আদালতে মামলা করা হয়। আদালত নয় কার্যদিবসের (বৈরী আবহাওয়া বাদে) মধ্যে সার খালাস করা নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হলেও জাহাজটি এখনো বন্দর ত্যাগ করতে পারেনি। আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সার খালাস না করা প্রসঙ্গে স্টিভিডরস মালিক মো. সাঈদ আহম্মেদ তুষার বলেন, লাইটারেজ না পাওয়ায় যথাসময়ে সার খালাস করা যাচ্ছে না। অপরদিকে খুলনা বার্জ, কার্গো, লাইটার মালিক সমিতির সচিব মো. আজাহার আলী বলেন, বন্দরে বার্জ, কার্গোর প্রচণ্ড অভাব,  তাই ওই  জাহাজের সার খালাসে প্লেসমেন্ট দেওয়া যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, এর আগেও সাগর শিপ ম্যানেজমেন্ট ও এম ট্রেডিং একাধিক বিদেশি জাহাজ ভাড়া করে মংলা বন্দরে এনে এমনিভাবে নানা জটিলতার সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ বন্দর ব্যবহারকারীদের। বন্দর ব্যবহারকারীরা সাগর শিপ ম্যানেজমেন্ট ও এম ট্রেডিংয়ের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।