কলেজ সরকারি করার দাবিতে খানসামায় হরতালে সংঘর্ষ, আহত ২০

রতন সিং, দিনাজপুর: দিনাজপুরে একটি কলেজ সরকারি করার দাবিতে হরতাল চলার সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে  পুলিশের সংঘর্ষে দুই পুলিশ সদস্যসহ ২০ জন আহত হয়েছে।

পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৫ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে।

এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

খানসামা ডিগ্রি কলেজকে সরকারি করার দাবিতে এলাকার ছাত্র-জনতা রোববার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হরতাল ডাকে। এ সময় পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে।

হরতাল সমর্থকরা কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের পর খানসামা থানায় ইটপাটকেল ছুড়ে মারলে পুলিশ ছাত্র-জনতাকে নিবৃত্ত করতে পুলিশ ২৫ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। হরতালকারীদের ওপর লাঠিচার্জও করে পুলিশ।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী কলেজ সরকারিকরণের দাবিতে হরতালের সমর্থনে শনিবার সন্ধ্যার পর উপজেলা সদরে খণ্ড খণ্ড মিছিল বের হয়। রাতে পুলিশ রাকেশ গুহ, আব্দুল লতিফ রানা, সোলজার রহমান, রফিক রহমান ও আতাউর রহমান নামে আন্দোলনকারীদের পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।

রোববার সকালে গ্রেফতারের খবরে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। হরতালের সময় দোকানপাট বন্ধ ছিল। অফিস-আদালতে কাজ হয়নি।  সংঘর্ষে আন্দোলনকারীদের ১৮ জন আহত হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, হরতালকারীদের ইটের আঘাতে পুলিশ কনস্টেবল মাহমুদুল হাসান ও জাকিরুল ইসলাম আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেবুর রহমান জানান, ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের দাবিতে উপজেলা সদরে পুলিশের সাথে হরতালকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল নিক্ষেপের উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

জানা গেছে, ১৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী দেশের নয়টি ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। এতে খানসামা উপজেলার পাকেরহাট ডিগ্রি কলেজের নাম রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই উপজেলা সদরের খানসামা ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণের দাবি জানিয়ে আসছিল এলাকাবাসী। খানসামা কলেজের নাম বাদ দিয়ে পাকেরহাট ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণের সিদ্ধান্তের পর থেকে এলাকাবাসী আন্দোলনে নামে।

Be the first to comment on "কলেজ সরকারি করার দাবিতে খানসামায় হরতালে সংঘর্ষ, আহত ২০"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.