বাগেরহাট সদর উপজেলায় দুর্নীতি কমেছে: জরিপের তথ্য

বাগেরহাট প্রতিনিধি: দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনও তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জানেন না। ৩৮.৩৪ শতাংশ মানুষ তথ্য অধিকার আইনের কথা শুনলেও ৬১.৬৬ শতাংশ মানুষ এ সম্পর্কে শোনেননি। বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রশাসনে দুর্নীতি বিষয়ে জরিপকালে এ তথ্য উঠে আসে। শনিবার দুপুরে জরিপের ফল প্রকাশ করে বাগেরহাটের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আলোকবর্তিকা। এ উপলক্ষে বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়ামে আলোকবর্তিকা’র উপদেষ্টা যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম এ মতিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, প্ল্যানিং কমিশনের ক্রয় সংক্রান্ত রিভিউ প্যানেলের (সিপিটিইউ) সদস্য সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. বেলায়েত হোসেন।

Corruption related social audit

দুর্নীতি বিষয়ে জরিপ রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন সুশান্ত মজুমদার।

‘দুর্নীতি বিরোধী বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রশাসন’ প্রতিষ্ঠার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সেবা গ্রহীতাদের ওপর উপজেলার সার্বিক কর্মকাণ্ড নিয়ে গত এক সপ্তাহ যাবৎ এ জরিপ করা হয়। সেবা গ্রহীতাদের উত্তরের ভিত্তিতে জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। শক্ত অবস্থানের ফলে বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রশাসনের সকল দপ্তর ও বিভাগের সার্বিক কর্মকাণ্ডে দুর্নীতি বহুল্যাংশে হ্রাস পাওয়ায় সেবা গ্রহীতারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জরিপে প্রকাশ করা হয়। সভায় সঞ্চালক ছিলেন, দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন গড়ার অগ্রদূত বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. শরীফ নজরুল ইসলাম।

আরও বক্তব্য দেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান মুজিবর রহমান, প্রেসক্লাবের সভাপতি আহাদ হায়দার, সুজন সভাপতি প্রফেসর মোজাফ্ফর হোসেন, সাহিত্যিক মুক্তিযোদ্ধা সুশান্ত মজুমদার, সনাক সদস্য এবিএম মোর্শারফ হুসাইন, অধ্যক্ষ খন্দকার আছিফ উদ্দিন রাখি, বেগম তহুরা হোসেন, অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন চাকলাদার, সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের সম্পাদক মীর ফজলে সাঈদ ডাবলু, প্রেসক্লাবের সম্পাদক তালুকদার এ বাকী, ক্যাবের সভাপতি বাবুল সরদার, ‘আলোকবর্তিকার’ সভাপতি সুরুজ খান, সম্পাদক রেজাউল করিম প্রমুখ।

তবে ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রকৌশলসহ  কয়েকটি দপ্তরে দুর্নীতি হ্রাস করতে আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়। দুর্নীতি দমনের জন্য তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সুশাসন, সামাজিক মূল্যবোধ এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি বলে বক্তারা মত দেন। বাংলাদেশে এই প্রথম কোন উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব উদ্যোগে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সামাজিক সংস্থা দিয়ে জরিপ করায় বক্তারা ইউএনও শরীফ নজরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানান। তারা এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার এবং প্রশাসনের অন্যান্য সকল স্থানে কার্যকরের আহ্বান জানান।

আলোকবর্তিকা সংস্থার সভাপতি মো. সুরুজ খান বলেন, এক সপ্তাহে ১১৭ জন নারী ও ২৫৬ জন পুরুষসহ মোট ৩৭৩ জন উপজেলা প্রশাসন থেকে সেবা নিয়ে ফেরার পথে তাদের কাজ থেকে পাওয়া জরিপে ৯৫.১৭ ভাগ দুর্নীতি কমেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। এই জরিপের সময় তথ্য অধিকার আইন সর্ম্পকে ধারণা নেই অর্ধেকের বেশি সেবা গ্রহণকারীদের।

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন শেণিপেশা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Be the first to comment on "বাগেরহাট সদর উপজেলায় দুর্নীতি কমেছে: জরিপের তথ্য"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.