লোডশেডিংয়ে নাকাল বরিশালবাসী, বিপাকে পরীক্ষার্থীরা

বরিশাল থেকে এম.মিরাজ হোসাইন: চৈত্রের অসহনীয় গরমের মাঝে বরিশাল নগরীসহ জেলার উপজেলাগুলোতে গত এক সপ্তাহ থেকে ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হয়েছে। এতে চলমান এইচএসসি ও মাধ্যমিক স্কুলগুলোর পরীক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পরেছেন। এ ছাড়া বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনের অবস্থাও নাজুক হয়ে পরেছে। অব্যাহত লোডশেডিং এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা রবিবার দুপুর বারোটার দিকে পল্লী বিদ্যুতের গৌরনদী জোনাল অফিস ঘেরাও করেছে। এসময় ওই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়ে যায়।

সূত্রমতে, গত সাতদিন থেকে প্রতিদিন দিন-রাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে একটানা ১ ঘন্টাও বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন না গ্রাহকেরা। টানা ৩/৪ ঘন্টার ঘন ঘন লোডশেডিং জেলার কয়েক লাখ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লোডশেডিং থাকায় পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়া চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। এরমধ্যে নগরীসহ উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ২ থেকে ৩দিন পর্যন্তও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা যান্ত্রিক ত্রুটির খোঁড়া অজুহাতে বিদ্যুৎ সরবরাহের খুঁটিনাটি সমস্যা ঝুঁলিয়ে রেখে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। ফলে সরকারের উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সফলতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বরিশালবাসী। জানা গেছে, ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে শুক্রবার বিকেল পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত একটানা বিদ্যুৎবিহীন ছিল নগরীর মেডিকেল ফিডারের জিয়ানগর এলাকা। দীর্ঘসময়ে ওই এলাকার প্রায় দু’হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয় বরিশাল বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়ান স্টপ সেন্টারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অভিযোগ রয়েছে, কখন নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে এ ব্যাপারে সাধারণ গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করলে তাদের (গ্রাহকেরা) সাথে অশোভন আচারণ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। জেলার অন্যান্য উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের অবস্থা আরো করুণ। রবিবার সকাল থেকে টানা দুপুর একটা পর্যন্ত ও শনিবার বেলা সাড়ে বারোটা থেকে একটানা বিকেল ছয়টা পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন ছিলো গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, উজিরপুর, বাবুগঞ্জ, মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা ও মুলাদী উপজেলাবাসী।

শনিবার রাতেও একাধিকবার লোডশেডিংয়ের কবলে পরতে হয়েছে ওইসব এলাকার বিদ্যুৎগ্রাহকদের। এছাড়াও আকাশে মেঘ দেখলেই এসব উপজেলায় লোডশেডিং শুরু হয়ে যায়। গত সাতদিন থেকে এ অবস্থা এখন প্রায় প্রতিদিনকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে মাইকিং করে সপ্তাহে একদিন বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের জন্য সংযোগ বন্ধ রাখা হলেও গত ছয়মাসেও বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের কাজ শেষ হয়নি।

এ ব্যাপারে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হেম চন্দ্র বৈদ্য বলেন, যান্ত্রিক ক্রটি কিংবা লাইনের সমস্যা হলে বিদ্যুৎ সরবরাহতো বন্ধ রাখতেই হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা চাচ্ছি গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে। কিন্তু মাঝে মধ্যে যান্ত্রিক ক্রটি কিংবা পুরনো লাইন মেরামতের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। ঘন ঘন লোডশেডিং সম্পর্কে তিনি বলেন, খুব শীঘ্রই সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।