রংপুর থেকে জয়নাল আবেদীন: কৃষি ক্ষেত্রে যান্ত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুফল পেতে শুরু করেছে রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা। যান্ত্রিক কৃষি উপকরণের ফলে সহজ হয়েছে চাষাবাদ। এই জেলায় ধান, চাল, পাটসহ গম চাষে কৃষকের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
গত বছর রংপুর জেলায় সাড়ে ৩হাজার হেক্টর জমিতে গমের চাষাবাদ হয়েছিল আর এ বছর ৪ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষাবাদ হয়েছে। কৃষি অধিদপ্তরের আবিস্কার কম্বাইন হারভেষ্টার মেশিন যা ধান ও গম কাটা এবং মাড়াই করে অল্প খরচে খুব সহজে। এসব বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গম চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে রংপুর জেলার কৃষকরা। সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা ও গভীর নলকূপের মাধ্যমে যে বোরো চাষাবাদ করা হচ্ছে সেটিকে কমিয়ে যান্ত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গম এবং আউস চাষ বাড়ানোর লক্ষে কৃষি অধিদপ্তর উন্নত বারি ২৫গম বীজ সরবরাহ করায় এবার গমের ব্যাপক ফলন হয়েছে রংপুরে। হাসি ফুটেছে এ অঞ্চলের গম চাষিদের মুখে।
আগে ৬০ শতক জমির গম ফলন, কাটা, মাড়াই করতে খরচ হতো ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। এখন কম্বাইন হারভেষ্টার মেশিনের মাধ্যমে খরচ হচ্ছে মাত্র টাকা ৬ থেকে ৭শ টাকা। কৃষি অধিদপ্তরের দেওয়া বীজ, সার, কিটনাশক ও বৈজ্ঞানিক উপকরণ এবং বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় আগামীতে আরো বেশি চাষাবাদে আগ্রহী হবে কৃষক। একদিনে গম কাটা মাড়াই ও বস্তাবন্দি করে ভালো দামে বাজারজাত করতে পারায় আবারও কৃষিতে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে কৃষকের। তারাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকতা মোঃ রেজাউল করিম জানান কৃষি অধিদপ্তর ও আইডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রদর্শনী ও নতুন প্রযুক্তর মাধ্যমে কৃষকদের উদ্ধুদ্ধকরণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষিতে যে সংকট দেখা দিয়েছিল সে সংকট মোকাবেলায় এখন গম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে ও আগামীতে আরো বেশি জমিতে এ গম চাষাবাদ করে সরকারের যে খাদ্য চাহিদা তা পূরণ হবে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশাবাদী ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের খামার বাড়ির উপ-পরিচালক মোঃ জুলফিকার হায়দার বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর রংপুর জেলায় গম চাষ বেড়েছে এবং রংপুরের প্রতিটি উপজেলায় সিড ভিলেজ তৈরি করা হচ্ছে। কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি, ভালো উন্নত মানের বীজ সরবরাহ অব্যাহত থাকলে আগামীতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করতে পারবে এ অঞ্চলের গম।