পাইকগাছার শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবু গাইন গ্রেফতার, অস্ত্র-গুলি উদ্ধার

প্রতিনিধি, খুলনা: পাইকগাছা উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামি মো. বাবুল হোসেন গাইন ওরফে বাবু গাইনকে (৪২) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব-৬ খুলনার সদর দপ্তরে তাকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। এর আগে সোমবার রাতে র‌্যাব সদস্যরা পাইকগাছার গড়ইখালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে একটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। বাবু গাইন ওই এলাকার কেসমত গাইনের ছেলে। তার বিরুদ্ধেথানায় ১২টি মামলা ও তিনটি সাধারণ ডায়েরি রয়েছে।

khulna top terror babu gain arrest
বাবু গাইনকে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে র‍্যাব।

মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব-৬ খুলনার সদর দপ্তরে তাকে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্কোয়াড্রন লিডার নিয়াজ মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার তার নেতৃত্বে র‌্যাব-৬ এর একটি দল পাইকগাছার গড়ইখালী ইউনিয়নের অভিযান চালিয়ে গড়ইখালী টু আলমতলা সড়কের একটি মুদি দোকানের সামনে  থেকে বাবু গাইনকে গ্রেফতার করে।

তিনি জানান, বাবু গাইন দীর্ঘদিন ধরে গড়ইখালী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এলাকায় লোকজন ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলত না। তাকে গ্রেফতারের পর গড়ইখালীর সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছে। তাকে পাইকগাছা থানায় হস্তান্তর করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ব্রিফিংয়ের সময় বাবু গাইনও সাংবাদিকদের কাছে এলাকায় ৩৮০ বিঘা জমির ঘের দখল এবং নারী নির্যাতনসহ তার নানা অপকর্মের কথা অকপটে স্বীকার করে। এ জন্য সে অনুশোচনা করে ক্ষমা প্রার্থনা করে। পাইকগাছার জাফর মল্লিক, জাকির সানা ও খুলনার নূরু তার সহযোগী বলে জানায় বাবু গাইন।

এলাকাবাসী জানায়,বাবু গাইন ক্ষমতাসীন দলের সাবেক এক জনপ্রতিনিধির আশ্রয়ে থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করে। পরে ওই জনপ্রতিনিধির সাথে তার বিরোধ হয়। এরপর নতুন এক জনপ্রতিনিধির সাথে সে সখ্যতা গডে তোলার চেষ্টা করে। তবে দিনের পর দিন তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও তার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছিল না।