ফলোআপ: ছাত্রী উত্যক্তকারী নেতার পক্ষে কলেজ অধ্যক্ষকে হুমকি ও মৈত্রীনেতাকে মারধর

আমিনা বিলকিস ময়না, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে ছাত্রী উত্ত্যক্তকারীকে সাজা দেওয়ার ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষ লিয়াকত পারভেজকে হুমকি দিয়েছে ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী কয়েকজন ছাত্র।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ লিয়াকত পারভেজ জানান, রবিবার দুপুরে ছাত্রলীগ নেতা মিঠুন ব্যানার্জী ও  তার সাথে থাকা আবু তাহের রাজু ও ইমন আস্ফালন দেখাতে থাকে। এ সময় তারা কলেজ অচল করে দেওয়ার হুমকি দেয়। আস্ফালন দেখিয়ে বেরিয়ে যেয়ে তারা ছাত্রমৈত্রী কলেজ শাখার আহবায়ক পলাশ দাশকে বেধড়ক মারপিট করে। পলাশ কলেজের দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। পুরাতন সাতক্ষীরা ফাঁড়ির এস আই সেলিম রেজা দ্রুত এসে পলাশকে উদ্ধার করেন।

এসময় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি ছাত্র সংগঠন সবসময় কলেজ চালাতে সহযোগিতা করে। বিরোধীরা বন্ধের হুমকি দেয়। কিন্তু এখানে ছাত্রলীগের উল্টো ঘটনা দেখছি।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া পারভীন, আইরিনসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, এই মিঠুন, রাজু, ইমন, আশিকুর চক্রটির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ওদের বিরুদ্ধে মুখ খোলা যায় না। মুখ খুললেই ওরা যাকে তাকে সবার সামনে মারপিট করে। এর আগেও এ ঘটনা বহু ঘটেছে। ওদের মারপিটের শিকার হয়েছে শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ অনেকে।

এস আই সেলিম রেজা জানান, আহত পলাশের বিষয়ে অভিযোগ এলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, আগে দরকার আহত ব্যক্তির চিকিৎসা, এরপর আইনী ব্যবস্থা। তিনি মৈত্রী নেতাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পলাশ দাশ বলেন, কোন ধরনের বাকবিতন্ডা ছাড়াই কলেজ গেটে হঠাৎ এসে আমার উপরে হামলে পড়ে ছাত্রলীগ সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক এবং একই সাথে জাতীয় ছাত্রসমাজের যুগ্ম আহবায়ক পরিচয় ধারণকারী মিঠুন ব্যানার্জী, ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী রাজু, ইমনসহ কয়েকজন। তিনি এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এর আগে রবিবার দুপুরে ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ধারী আশিকুর রহমান কলেজ ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় ভ্রাম্যমান আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারদ- দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.