রংপুরে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় একই পরিবারের চারজন খুন, আটক ২

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা একই পরিবারের চার সদস্য। পুলিশ জানিয়েছে, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুজন সিদ্ধার্থ (২০) ও মুগ্ধ (২৩) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর দুর্বৃত্তরা কয়েক ঘণ্টা ওই বাড়িতে অবস্থান করেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ সময় তারা গোসল করে এবং বাড়িতে থাকা খেজুর ও শসা খায় বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ গণমাধ্যমকে জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শেষ রাতের দিকে গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে বসে মাদক সেবন ও আড্ডা দিচ্ছিলেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। তারা প্রায়ই এই কাজ করতেন। ওইদিন এ দৃশ্য দেখে ফেলায় প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তারা। পরে শব্দ শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা বেরিয়ে আসলে তাকেও হত্যা করা হয়। এরপর মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী বেরিয়ে আসেন। এরপর তাকেও হত্যা করা হয়। সবশেষ ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম তাদের চিনে ফেলায় তাকেও হত্যা করেন তারা। এরপর বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন জিনিস লুট করে পালিয়ে যায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ।

পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার রাতে প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী তাকে ফোন করেন। ফোনে সাড়া না পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। সবার ফোন বন্ধ পাওয়ার পর স্বামীকে নিয়ে মাছুয়াপাড়ার বাড়িতে যান পূজা।

বাড়িতে গিয়ে প্রধান ফটক বন্ধ এবং পুরো ভবন অন্ধকার দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তা নেন। পরে পাশের বাড়ির দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করা হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।