আতাউর রহমান মিন্টু, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ): গার্মেন্টসে ভালো বেতনে চাকরির আশ্বাস দিয়ে খুলনা শহরের রায়েরমহল এলাকার এক শিশুকে ঢাকা ও গফরগাঁওয়ের একাধিক স্থানে দেড়মাস আটকে রাখা হয়েছিল। পাচারের উদ্দেশ্যে তার নামে পাসপোর্টও করা হয়েছিল। অবশেষে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায়, গফরগাঁওয়ের পাগলা থানা পুলিশের তৎপরতায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ওই শিশু। এ ঘটনায় মঙ্গলবার শিশুর পিতা বাদী হয়ে খুলনার হরিনহাটা থানায় মামলা দায়ের করেছে।

স্কুল ছাত্রী, তার পরিবার ও থানা পুলিশের সাথে কথা বলে জানা গেছে, খুলনা শহরের ছোট বয়ড়া রায়ের মহল এলাকার মীরের ঘাট সড়কের দরিদ্র রাজমিস্ত্রী মোস্তফা শেখের, ১৪ বছর বয়সী কন্যা, খুলনার ফুলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী মলিনা আক্তার টুকটুকিকে জনৈকা শাম্মী ও শাম্মীর মা রওশন আক্তার দেড় মাস আগে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে আসে। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করে টুকটুকির বড় বোন ময়না ও বোন জামাই শহীদ।
শাম্মী মালয়েশিয়া প্রবাসী, শাম্মীর মা’র বাড়ি গফরগাঁও উপজেলার দক্ষিণ লামকাইন গ্রামে। শাম্মী ও রওশন আক্তার ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টুকটুকির পাসপোর্ট করায় এবং ঢাকার একটি বাসায় একমাসের বেশি সময় আটকে রাখে। টুকটুকি জানায়, এ সময তাকে বাসার একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখে। খাওয়ার সময় শুধু রুম খুলে দিত। ঈদের আগের দিন টুকটুকিকে অচেতন করে গফরগাঁও আনা হয়। তাকে রাখা হয় গফরগাঁও পৌর শহরের তিতাস গ্যাস অফিসসহ বিভিন্ন জায়গায়।
সর্বশেষ গত রবিবার রাতে গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার দক্ষিণ লামকাইন গ্রামে রওশন আরার আত্বীয় শাহজাহানের বাড়িতে রাখে। টুকটুকি বিষয়টি শাহজাহানের বাড়ির লোকজনকে জানালে স্থানীয় লোকজন স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফ মাহমুদ পাগলা থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে থানা পুলিশ টুকটুকিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। টুকটুকি জানায়, পাসপোর্ট করার পর ঢাকায় থাকাকালে অপরিচিত কিছু লোক তাকে বিমানে করে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার কথা বলত, অনেক টাকা বেতনের লোভ দেখাত। তাদের কথামত না চললে মেরে ফেলার হুমকি দিত।
এদিকে খবর পেয়ে টুকটুকির মা রমিজা বেগম, ভাই মুজাহিদ শেখ টুকটুকিকে উদ্ধার করে নেওয়ার জন্য মঙ্গলবার সকালে পাগলা থানায় উপস্থিত হয়েছে।
খুলনার হরিনহাটা থানার ওসি এমএম মিজানুর রহমান বলেন, টুকটুকির বাবা বাদি হয়ে দায়ের করা মামলায় এজাহারনামীয় দুইজনসহ ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
