ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গাজামুখী মানবিক নৌবহর, রুখে দেওয়ার ঘোষণা ইসরায়েলের

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা এখন “উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে” প্রবেশ করেছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছে।

নৌবহরে ৪০টি বেসামরিক নৌযান অংশ নিচ্ছে। এতে সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ পাঁচশরও বেশি কর্মী, আইনপ্রণেতা ও আইনজীবী রয়েছেন।

রয়টার্স ও এপির খবরে জানানো হয়েছে, বুধবার (১ অক্টোবর) গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নামের মানবিক নৌবহর গাজা থেকে ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরত্বে ঢোকার পর থেকেই ইসরাইল ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়িয়েছে। দুটি যুদ্ধজাহাজ বহরের দুটি নৌযান ঘিরে ফেলে। যোগাযোগ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, পরে যোগাযোগ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার হয়।

অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা গাজায় কোনো নৌযান পৌঁছতে দেবে না। দেশটি তাদের এ  নৌ-অবরোধকে হামাসবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপ্রেক্ষিতে বৈধ বলে দাবি করেছে। ইসরায়েল পরামর্শ দিয়েছে যে ফ্লোটিলার অংশগ্রহণকারীরা আশ্দেলন বন্দরে এসে ত্রাণ খালাস করতে পারে, যেখান থেকে সমন্বিতভাবে গাজায় ত্রাণ পাঠানো হবে।

আয়োজকরা বলছেন, বহরে গ্রেটা থুনবার্গ ছাড়াও নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি ম্যান্ডেলা ম্যান্ডেলা এবং বহু ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা আছেন। ফ্লোটিলার মূল লক্ষ্য ছিল অবরোধ ভাঙা এবং প্রতীকীভাবে কিছু পরিমাণ মানবিক সহায়তা গাজার নিকটে পৌঁছানো।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ ঘটনায় নৌবহরের সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সতর্কতা ও সুরক্ষা দাবি করেছে।

গ্রেটা থুনবার্গ আগের সপ্তাহে ড্রোন হামলার অভিযোগকে “ভীতি প্রদর্শনের কৌশল” হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, “আমরা ঝুঁকি সম্পর্কে জানি, তবে এটি আমাদের থামাবে না। আমাদের অভিযান অবিচল থাকবে।

এ বছরের জুনে ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’-এর একটি জাহাজ আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। ওই মিশনে গ্রেটা থুনবার্গও ছিলেন। সেই ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করে পরে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।