প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেও নির্বাচন হতে পারে

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যদি সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা যায় তবে ২০২৬ সালের রমজান শুরুর আগের সপ্তাহেই দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে এ জন্য নির্বাচন-পূর্ব সংস্কার এবং বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যভাগের পর রোজা শুরু হবে। সে হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তাবিত সময়টি ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহ। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে নির্বাচন হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন। অবশ্য বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দাবি করে আসছিল।

শুক্রবার (১৩ জুন) সকালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা) এই বৈঠক শুরু হয় এবং তা শেষ হয় সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টা)। বৈঠকশেষে একটি যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। পরে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টার দিকে উভয়পক্ষের প্রতিনিধি দল এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করে।

বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকশেষে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অধ্যাপক ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তারেক রহমান প্রস্তাব দেন, ২০২৬ সালের রমজান শুরুর আগে দেশে নির্বাচন হলে সেটি সময়োপযোগী হবে। তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও মনে করেন, ওই সময় নির্বাচন হলে তা সবার জন্য ইতিবাচক হবে।

এ সময় অধ্যাপক ইউনূস জানান, তিনি চান আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। তবে যদি তখন না হয়, তবে ২০২৬ সালের রমজানের আগেও নির্বাচন সম্ভব, তবে শর্ত থাকে যে, তার আগে সংশ্লিষ্ট সংস্কার ও বিচারসংক্রান্ত বিষয়গুলোর যথাযথ অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।

বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হওয়ায় অধ্যাপক ইউনূস তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। বৈঠকশেষে তারেক রহমান ডরচেস্টার হোটেল ত্যাগ করেন।

তথ্যসূত্র: বাসস ও প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেইজ। ছবিটি প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেইজ থেকে নেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.