ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির আইনগত সুরক্ষায় হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ

ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তির ন্যায়বিচার ও আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আইনজীবী, চিকিৎসক, পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা, মানবাধিকারকর্মী ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) যশোরের ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে ‘ধর্ষণে ভুক্তভোগী ব্যক্তির আইনগত সুরক্ষায় হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ গুরুত্বারোপ করেন। ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি (এসইএলপি) এ সভার আয়োজন করে।

সভায় বক্তারা বলেন, ধর্ষণের মামলা গ্রহণে বিলম্ব করা যাবে না এবং দেশের যেকোনো থানায় মামলা গ্রহণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর দ্রুত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং তথাকথিত ‘টু-ফিঙ্গার টেস্ট’ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন জরুরি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার নিশাত সুলতানা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রচারণা বাড়ানো, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন। প্রয়োজনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি আবদুল লতিফ লতা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে এবং ভুক্তভোগীর ওপর ‘টু-ফিঙ্গার টেস্ট’ যেন না করা হয়, তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় ভুক্তভোগীর মর্যাদা, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুলিশ, চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী, আদালত, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার (ভিএসসি) ও ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও রেফারেল ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।

সভায় হাইকোর্টের নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, ভুক্তভোগীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে বিভিন্ন সুপারিশ দেওয়া হয়।

মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন, ডা. আবির হোসেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক অনিতা মল্লিক, অ্যাড. মাসুমা বেগম, অ্যাড. আনিসুর রহমান পলাশ, অ্যাড. নাসিমা খাতুন, ওসিসি যশোরের প্রোগ্রাম অফিসার অমিত শাহরিয়ার বাপ্পী, রুবায়েতুল ইসলাম সুমন প্রমুখ।