এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির (বাগেরহাট): বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে বাঘ ও বাঘের খাদ্য হিসেবে বিবেচিত প্রাণীর সংখ্যা বেড়েছে বলে একটি জরিপে জানা গেছে। বাঘের খাদ্য হিসেবে বিবেচিত পাঁচ প্রজাতির প্রাণী চিত্রল ও মায়া হরিণ, বানর, বন্যশূকর, গুঁইসাপ ও সজারুর সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দ্য কনজারভেশন অফ নেচারের (আইইউসিএন) এ জরিপ পরিচালনা করে। ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
জরিপে বাঘের সংখ্যা নিয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হয়, এতে বাঘের সংখ্যা বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে। বাঘের সংখ্যাসম্পর্কিত তথ্য আগামী ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবসে প্রকাশ করা হবে।
সুন্দরবনের ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর মধ্যে মাত্র পাঁচটি বাঘের সরাসরি খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। জরিপে দেখা গেছে, ২০০৪ সালে সুন্দরবনে হরিণের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮৩ হাজার, যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০০-এর বেশি। একইভাবে বানরের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দেড় লাখের বেশি এবং বন্যশূকরও প্রায় ৪৮ হাজারে পৌঁছেছে। প্রথমবারের মতো জরিপে অন্তর্ভুক্ত হওয়া গুঁইসাপ ও সজারুর সংখ্যাও যথাক্রমে প্রায় ২৫ হাজার ও ১২ হাজার ছাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে পাঁচ প্রজাতির মোট সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ৩,৭৩,৯২৮টি।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে জানান, সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী শিকার কমেছে, বন হয়েছে দস্যুমুক্ত, স্মার্ট পেট্রলিং এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় তৎপরতায় পরিবেশ এখন অনেক বেশি অনুকূল। অভয়ারণ্যের পরিধি বাড়িয়ে ৫১ শতাংশে উন্নীত করাও এতে ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও জানান, চলমান ক্যামেরা ট্র্যাকিং জরিপে বাঘের সংখ্যাও বাড়ছে বলে ইঙ্গিত মিলছে। এই জরিপের চূড়ান্ত ফলাফল ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবসে প্রকাশ করা হবে।
