ভারতের আহমেদাবাদ শহরে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ২৪২ আরোহী ছিলেন। তাদের সবাই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিমানটি ২২৯ জন যাত্রী নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। এতে ১৩ জন ক্রু ছিলেন।
বিমানটি উড্ডয়নের পরপরই গুজরাটের রাজধানী আহমেদাবাদের মেঘানিনগর এলাকার একটি আবাসিক এলাকার একটি মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের উপর ভেঙে পড়ে। এতে মেডিকেল কলেজের অন্তত ৫০ শিক্ষার্থীও আহত হয়েছেন।
এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানটি বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে আহমেদাবাদের সরদার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের পর মাত্র ৬২৫ ফুট উচ্চতায় পৌঁছার পর বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর আগে বিমানটির পাইলট “মে ডে” (জরুরি বিপদ সংকেত) সংকেত পাঠান।
বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর সেখান থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। আগুন নেভাতে ও উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী এবং এনডিআরএফ কাজ করছে।
বিমানটিতে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, সাতজন পর্তুগিজ এবং একজন কানাডিয়ান নাগরিক ছিলেন।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। ভিডিও দেখে কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, বিমানের চাকা তখনো নামানো ছিল এবং ফ্ল্যাপ (ডানার নিম্নাংশের যন্ত্র) অস্বাভাবিকভাবে তাড়াতাড়ি গুটিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এটা থেকে তারা মানবিক ভুলের সন্দেহ করছেন। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বিমান দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এয়ার ইন্ডিয়া পরিবারগুলোর জন্য হেল্পলাইন চালু করেছে। আহমেদাবাদ বিমানবন্দর সাময়িকভাবে সব ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে।
তথ্যসূত্র: এপি, রয়টার্স, বিবিসি নিউজ
