বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস: সতর্কতা ও শিক্ষা, বাঁচাতে পারে প্রাণ

অনলাইন ডেস্ক: আজ ‘বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস’। জাতিসংঘ ঘোষিত এই দিবসটির উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাপী পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার কমানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। এই দিনে বিভিন্ন দেশ, সংস্থা ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করা হয়।

আজ (২৫ জুলাই) শুক্রবার প্রতি বছরের মতো পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস’। এই বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো- ‘সতর্কতা ও শিক্ষা, বাঁচাতে পারে প্রাণ’। জাতিসংঘ ২০২১ সালে এই দিবসটি প্রতি বছর ২৫ জুলাই পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যান, যার অধিকাংশই ঘটে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। এই মৃত্যুর একটি বড় অংশ শিশু ও কিশোর। বাংলাদেশও এই সমস্যা প্রবণ দেশগুলোর অন্যতম।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি শিশু-যত্ন কেন্দ্রে ক’জন শিশু। ছবি: দেশের খবর

বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু একটি নীরব মহামারির মতো বিরাজ করছে। সরকারিভাবে তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ হলো ডুবে যাওয়া। ২০১৬ সালের ‘বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে’ বলছে, দেশে প্রতি বছর গড়ে ১৯ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়, যার মধ্যে প্রায় ১৪,৫০০ জন শিশু (১৮ বছরের নিচে)। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন শিশু মারা যায়, যার মধ্যে ৩০ জনের বয়স পাঁচ বছরের নিচে।

ঈদের সময়, বিশেষ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার ছুটিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এছাড়া বর্ষাকালেও ডুবে মৃত্যুর প্রবণতা বাড়ে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসের প্রথম ছয় দিনে ১৮টি জেলায় ৩২ জন শিশু ডুবে মারা যায়। বেশিরভাগ ঘটনা ঘটে পুকুর বা ডোবায় খেলার সময়, যখন অভিভাবকরা ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকেন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে এই দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের জন্য তত্ত্বাবধানমূলক যত্ন, সাঁতার ও পানিসুরক্ষা প্রশিক্ষণ এবং কমিউনিটি সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে ৮০% শতাংশের বেশি মৃত্যুহার কমানো সম্ভব।

সরকার ২০১৬ সালে একটি ‘ন্যাশনাল ড্রাউনিং প্রিভেনশন স্ট্র্যাটেজি’ খসড়া করলেও তা এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১৬ জেলায় ৮ হাজার শিশুযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এসব যত্নকেন্দ্রের আওতায় ২ লক্ষাধিক শিশু সুরক্ষা ও নিরাপত্তা পাচ্ছে। তবে এই উদ্যোগকে জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, একটি তথ্যভিত্তিক জাতীয় মনিটরিং সিস্টেম এবং সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই প্রতিরোধযোগ্য সংকট মোকাবিলা করা যাবে না।

বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী এই দিবস পালনের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও সচেতন সমাজ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হচ্ছে।