বিশেষ প্রতিনিধি: শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটিই জানাচ্ছিলেন সৌদির দাম্মাম প্রবাসী তাহের মোহাম্মদ আসিফ।
বিকেলে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এই কারণে বিমানবন্দরে হাজার হাজার প্রবাসী দীর্ঘ প্রতীক্ষায় রয়েছেন। সঙ্গে আছেন তাদের পৌঁছে দিতে আসা স্বজনরাও। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত যাত্রীরা ঢাকায় থাকবেন নাকি নিজ জেলায় ফিরবেন সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।
দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার কারণে অনেকের ভিসার মেয়াদ এবং সংযোগ ফ্লাইটের সময়সীমা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে যারা কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইতালিগামী ট্রানজিট যাত্রী— তাদের মধ্যে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি।
আফসান রহমান সায়েম নামে সৌদি আরবগামী এক প্রবাসী বলেন, আমার ভিসার মাত্র তিন দিন বাকি। রোববারের মধ্যে না গেলে হয়তো পুরো প্রসেসটাই নতুন করে করতে হবে। এতে লাখ লাখ টাকা ক্ষতি। আমরা শুধু চাই পরিষ্কার ঘোষণা দেওয়া হোক ফ্লাইট হবে কি হবে না। অন্তত সিদ্ধান্তটা জানলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে পারতাম। এখন না পারছি ফিরতে, না পারছি যেতে।
মনোয়ার হোসেন কাওসার নামে আরেক প্রবাসী যাত্রী বলেন, আমাদের এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। বিকেল থেকে আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি শুধু নিশ্চিত খবরের অপেক্ষায়। আমরা দেখেছি মন্ত্রী (বিমান মন্ত্রী) ভেতরে প্রবেশ করেছেন, কিন্তু বাইরে এসে আমাদের কিছু জানাননি। আদৌ ফ্লাইট চালু হবে কিনা— এসব বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কেউ কথা বলছে না।
‘শরীয়তপুর থেকে সকাল ৭টায় রওনা দিয়েছি এবং দুপুর ১২টায় বিমানবন্দরে পৌঁছেছি। আমার সৌদি আরবের ফ্লাইট ছিল রাত ৩টা ২৫ মিনিটে। কিন্তু বিমানবন্দরে এসে দেখি সব ফ্লাইট বাতিল। কোথাও কোনো তথ্য নেই। কোথায় থাকব, কী করব— সবই অজানা।’
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যগামী ২৮ টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের রাতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কুয়েত বিমানবন্দরে হামলায় ৩ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। ফ্লাইট বাতিলের কারণে বিমানবন্দরে ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত যাত্রী।
