এক গাভী থেকে ২০ গাভী, ঠাকুরগাঁওয়ে চিজ কারখানা গড়েছেন হাবিবুর

একটি গাভী দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার উদ্যোক্তা হাবিবুর রহমান হবি। প্রায় দুই দশকের পরিশ্রমে তার খামারে এখন গাভীর সংখ্যা ২০টি। দুধ উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারজাতকরণের সমস্যা মোকাবিলায় গড়ে তুলেছেন মোজারেলা চিজ তৈরির কারখানাও। বর্তমানে তার উদ্যোগে কর্মসংস্থান হয়েছে নয়জনের।

হাবিবুর রহমানের বাড়ি উপজেলার ৮ নম্বর দৌলতপুর ইউনিয়নের বাঁশগাড়া সাগুনি গ্রামে। ২০০৭ সালে ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গাভী কিনে তিনি ‘হাবিব দুগ্ধ খামার’ নামে ব্যবসা শুরু করেন। পরের বছর আরও একটি গাভী যুক্ত করেন। পরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ধীরে ধীরে খামারের পরিসর বাড়াতে থাকেন।

দুধ বিক্রির আয় এবং বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে একপর্যায়ে খামারে গাভীর সংখ্যা বাড়ান হাবিবুর। বর্তমানে তার খামারে বিদেশি জাতের ২০টি গাভী রয়েছে। দুধ বিক্রির আয় থেকে এরই মধ্যে তিনি আগের সব ঋণ ও দেনা পরিশোধ করেছেন।

খামারে দুধ উৎপাদন বেড়ে প্রতিদিন ১৫০ লিটারের বেশি হওয়ায় নতুন উদ্যোগের প্রয়োজন দেখা দেয়। স্থানীয় বাজারে পর্যাপ্ত দুধ বিক্রি করতে না পারায় ২০২২ সালে বাড়ির পাশে ‘দুই ভাই মোজারেলা চিজ কারখানা’ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

বর্তমানে নিজের খামারের দুধের পাশাপাশি আশপাশের ৭০ থেকে ৮০ জন খামারির কাছ থেকেও দুধ সংগ্রহ করেন হাবিবুর। প্রতি লিটার দুধের জন্য খামারিদের ৪৮ থেকে ৫২ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন কারখানায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার লিটার দুধ প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কেজি মোজারেলা চিজ উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি তৈরি করা হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ কেজি ঘি। এসব পণ্যের জন্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) থেকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্সও নিয়েছেন হাবিবুর।

উৎপাদিত চিজ ও ঘি স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুষ্টিয়া ও দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় এসব পণ্য বাজারজাত করছেন তিনি।

উদ্যোগটির মাধ্যমে সরাসরি নয়জন নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করায় তাদের জন্যও নিশ্চিত হয়েছে একটি বিক্রয়বাজার।

চলতি বছরের জুনে প্রাণিসম্পদ বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক পীরগঞ্জে গিয়ে হাবিব ডেইরি ফার্ম ও দুই ভাই মোজারেলা চিজ কারখানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি উদ্যোক্তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাবিবুর রহমানের দুগ্ধ খামার ও চিজ কারখানা বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠিত উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শ ও সহযোগিতায় তার এই সাফল্য স্থানীয় অন্য উদ্যোক্তা ও খামারিদেরও উৎসাহিত করছে।