শুক্রবার ভোরে (বাংলাদেশ সময়) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্টআপ ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী শিক্ষা, নারীর কর্মসংস্থান ও নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, ‘শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রও নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ।’ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে ফ্যামিলি কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিবারে নারী-প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এটিকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।
শিক্ষাখাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নৈতিক শিক্ষা ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নতুন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ভর্তি বাড়াতে বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে প্রথমবারের মতো স্পোর্টসকে একটি বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তবে প্রযুক্তির সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়। তরুণ জনগোষ্ঠীর ডিজিটাল সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে জ্ঞান, শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সবার নাগালের মধ্যে আনতে হবে।
তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল বিভাজন যেন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই বিভাজনে পরিণত না হয়।’
বাংলাদেশ উদ্ভাবন ও মেধাকে সম্মান করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কোনো দেশ যেন প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে না থাকে। সবার জন্য ন্যায্য ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশগুলোর পারস্পরিক নির্ভরতার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
করোনাভাইরাস মহামারির প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, মহামারি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। এমন সংকটে বৈশ্বিক সমাজের মধ্যে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা অপরিহার্য। ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় চিকিৎসাসামগ্রী ও রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রয়োজনের সময় এগুলো সবার জন্য সহজলভ্য থাকে।
ভাষণের শেষ পর্যায়ে নাগরিকের ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, কল্যাণমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ। যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবেন।
এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৪টা ১৮ মিনিটের দিকে (বাংলাদেশ সময়) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ৮১তম অধিবেশনে বিশ্ববাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেওয়া শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তার প্রথম ভাষণ।
এই ভাষণের মাধ্যমে পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে এক নতুন ইতিহাস গড়লেন তারেক রহমান। এর আগে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পরিবারের প্রথম সদস্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছিলেন।
তিনি ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন।
এর ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ভাষণ দেন।
