কাপ্তাই হ্রদের পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটির কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট পুনরায় খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার রাত ৮টা থেকে প্রতিটি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খোলা রাখা হয়েছে। এর ফলে জলকপাট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির কারণে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বাঁধের ওপর পানির চাপ কমাতে জলকপাট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। হ্রদটির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। বৃষ্টিপাতের কারণে হ্রদের ক্যাচমেন্ট এলাকায় পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় পানির উচ্চতাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলকপাট খোলার ফলে বাঁধের ভাটি অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা নেই।
এর আগে গত ১৮ জুলাই কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট প্রথমবারের মতো খোলা হয়েছিল। পরে হ্রদের পানির স্তর কমে এলে ২৩ জুলাই জলকপাটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান হ্রদের পানির উচ্চতা, উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই শনিবার রাত ৮টায় ১৬টি জলকপাট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। এর সঙ্গে জলকপাট দিয়ে বের হওয়া প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি যোগ হওয়ায় বর্তমানে প্রতি সেকেন্ডে মোট প্রায় ৪১ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
