হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ দেখিয়ে ফের মানচিত্র পোস্ট ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে আবারও একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ছবিটি পোস্ট করা হয়।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক তেল ও এলএনজি রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। বর্তমানে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ট্রাম্পের প্রকাশ করা মানচিত্রে হরমুজ প্রণালিকে বৃত্ত দিয়ে আলাদা করে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এর আগে ১৮ আগস্টও একই মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

এর কয়েক দিন আগে, ১৫ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি সমাবেশে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণার ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর দ্রুতই প্রণালিটিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে।

ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। বিপরীতে ইরানও জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকার দাবি করছে। তেহরানের বক্তব্য, প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে হলে জাহাজগুলোকে ইরানের অনুমতি নিতে হবে এবং নির্ধারিত ট্রানজিট ফি পরিশোধ করতে হবে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই শনিবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আচরণ পরিবর্তন ও দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি চালু করা হবে না। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে নিজেদের দায়বদ্ধতা পূরণ করতে হবে।

এদিকে ট্রাম্পের কথিত ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’-এ যুক্ত না হওয়ার জন্য অন্যান্য দেশকে সতর্ক করেছেন রেজাই। তাঁর দাবি, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে সহযোগিতা করা দেশগুলোকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে তেহরান। এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান থেকে সরে না এলে তাদের স্বার্থে আঘাত হানার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

রেজাই আরও বলেন, চলমান সংঘাতে ইরানের হাতে এখনো বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে। তার দাবি, এ পর্যন্ত ইরান শুধু মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থে হামলা চালায়নি।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দেশটির আশপাশসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকা মার্কিন তেল ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করার হুমকি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিলে দুই দেশের সংঘাত ‘ভূমিকম্পের মতো’ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন রেজাই।